সুনামগঞ্জে খলায় নষ্ট হচ্ছে কৃষকের হাজার হাজার মণ ধান
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
বৈশাখের শুরু থেকেই থেমে থেমে ঝড়, বজ্রসহ টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে চরম কৃষি সংকট। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনি ও মাটিয়ান হাওরসহ উপজেলার অন্তত ২৩টি হাওরের কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।
কাটা ধান শুকাতে না পেরে খলায় নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার মণ ধান। একইসঙ্গে বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক পাকা ধান কাটতে না পারায় জমিতেই নষ্ট হচ্ছে শত শত বিঘা জমির ফসল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টি ও আকাশ মেঘলা থাকায় কাটা ধান শুকানোর কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না কৃষকরা। খলায় স্তূপ করে রাখা ধান ভিজে গিয়ে অনেক স্থানে অঙ্কুরোদগম শুরু হয়েছে। এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তাহিরপুর উপজেলার ২৩টি হাওরে প্রায় ১৭ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে।
মাটিয়ান হাওরের কৃষক আলী হোসেন জানান, তিনি ১৭ কেয়ার জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। হাওরের জাঙ্গালের বেহাল দশা ও জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার ব্যবহার করতে না পেরে শ্রমিক দিয়ে কষ্ট করে ৫ কেয়ার ধান কেটে খলায় তুলেছেন। কিন্তু রোদ না থাকায় তা শুকাতে পারছেন না। বৃষ্টিতে ধান ভিজে অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
একই হাওরের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৫ কেয়ার জমিতে ধান লাগিয়েছেন। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে পারছেন না। জাঙ্গালের অবস্থা খারাপ থাকায় যন্ত্র দিয়েও ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জমিতেই ধান নষ্ট হচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।
শনি হাওরপাড়ের গৌবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক মিল্লাদ হোসেন জানান, তার ৬০ মণ ধান খলায় পড়ে বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ধানের স্তূপে ইতোমধ্যে অঙ্কুরোদগম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া দুই দিন আগে কাটা ৭ কেয়ার জমির ধান জাঙ্গাল খারাপ থাকায় পরিবহন করতে পারছেন না। আরও কয়েকদিন এমন আবহাওয়া থাকলে ক্ষতি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই এলাকার মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কৃষক সালাউদ্দিন মুন বলেন, তার প্রায় ২০ কেয়ার জমির পাকা ধান তিন দিন আগেই কাটার উপযুক্ত হয়েছে। শ্রমিক সংকটের মধ্যে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ধান জমিতেই নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না এলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে সমস্যা হচ্ছে, এতে কিছু ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প উপায়ে ধান শুকানোর বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।




