দিরাইয়ে বিষপানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
ভালোবাসার টানে মাত্র পাঁচ মাস আগে গড়ে উঠেছিল ছোট্ট সংসার। পরিবারকে পাশ কাটিয়ে শুরু হওয়া সেই সম্পর্ক পরে দুই পরিবারের স্বীকৃতিও পেয়েছিল। কিন্তু সেই ভালোবাসার গল্পের শেষটা হলো হৃদয়বিদারকভাবে। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে একসঙ্গে বিষপান করে মারা গেছেন তরুণ দম্পতি মনিকা বেগম (১৮) ও মাহফুজ আলম (১৯)।
রোববার উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাহফুজ আলম ওই গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় গার্মেন্টসকর্মী ছিলেন। মনিকা একই গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে দুজন গোপনে বিয়ে করেন। পরে দুই পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়। এরপর তাঁরা পারিবারিকভাবেই বসবাস করছিলেন।
স্বজনদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য দেখা দিয়েছিল। রোববার দুপুরে হঠাৎ করেই দুজন বিষপান করেন।
মাহফুজের বাবা আজিজুর রহমান জানান, সকালে তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূ রান্না শেষ করে পরিবারের সদস্যদের খাবার পরিবেশন করেন। তিনি খাবার শেষে হাওরে ধান কাটতে যান। কিছুক্ষণ পর খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখেন, ছেলে ও পুত্রবধূ রান্নাঘরে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন।
পরে তাঁদের দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিকা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর অবস্থায় মাহফুজকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মনিকা বেগমের মৃত্যু হয়েছিল। মাহফুজের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে সিলেটে পাঠানো হয়েছিল। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে বিষপানের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।





