সিলেটে কৃষকের হাট: উদ্বোধনের ১০ দিনেও জমেনি
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
সিলেটে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে চালু হওয়া ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধনের ১০ দিন পরও কার্যত ফাঁকা পড়ে আছে। নির্ধারিত দিনে হাট বসার কথা থাকলেও ক্রেতা–বিক্রেতার উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
নগরের টিলাগড় পয়েন্ট এলাকায় ১১ এপ্রিল এই হাটের উদ্বোধন করা হয়। উদ্যোগটির লক্ষ্য ছিল, প্রান্তিক কৃষকেরা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রি করবেন। এতে কৃষক ন্যায্য দাম পাবেন এবং ক্রেতারাও কম দামে তাজা পণ্য কিনতে পারবেন।
তবে বাস্তবে সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত দিনে হাটে কৃষকদের উপস্থিতি খুবই কম, অনেক সময় একেবারেই থাকে না। ফলে ক্রেতারাও আসছেন না।
কৃষকেরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময় না থাকায় হাটে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁদের অনেকেই জানান, সবজি প্রতিদিন তোলা হয় না। আবার অনেক ক্রেতা এখন বাড়িতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছ থেকেই পণ্য কিনছেন। এসব কারণে হাটে যাওয়ার আগ্রহ কমে গেছে।
কৃষকদের মতে, অল্প কয়েকজনকে নিয়ে হাট চালানো সম্ভব নয়। হাটকে পরিচিত করতে প্রচার বাড়ানো এবং কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। তা না হলে উদ্যোগটি কার্যকর হবে না।
উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া এবং সবজি উৎপাদন কম থাকায় কৃষকের উপস্থিতি কম। বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসছে, তবে সময় নির্ধারণ করা হয়নি। কৃষকেরা তাঁদের সুবিধামতো সময়ে এসে পণ্য বিক্রি করছেন।
এই হাটের উদ্দেশ্য ছিল মাঠপর্যায়ের কৃষক ও শহরের ক্রেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা। সাধারণত কৃষিপণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে একাধিক ধাপ পেরোতে হয়, এতে দাম বাড়ে, কিন্তু কৃষক ন্যায্য মূল্য পান না। সেই ব্যবধান কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে বাস্তবতায়, এখন পর্যন্ত হাটটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময় নির্ধারণ, প্রচার এবং অংশগ্রহণ বাড়ানো না গেলে উদ্যোগটি টেকসই হবে না।





