মৌলভীবাজারে দুই বোনকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ঘরে ঢুকে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তার বড় বোনকে ধর্ষণচেষ্টাকালে মিথুন দাস নামে প্রতিবেশী এক যুবককে আটক করে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। তবে এ সময় অভিযুক্ত যুবককে তার স্বজনরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের উত্তর বড়ময়দান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মিথুন দাসের চাচা অরুণ চন্দ্র দাসকে আটক করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উত্তর বড়ময়দান গ্রামের বকুল দাসের স্ত্রী রাইস মিলে টর্চলাইট দিতে গেলে ঘর ফাঁকা পেয়ে প্রতিবেশী মিথুন দাস (২৭) ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে সে ১৬ বছর বয়সী এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোট বোনকে টানাহেঁচড়া শুরু করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মেয়েটি ঘর থেকে বেরিয়ে চিৎকার দিলে মিথুন তখন বড় বোনকে (১৭) জাপটে ধরে। চিৎকারের চেষ্টা করলে সে মেয়েটির মুখ ও গলা চেপে ধরে নির্যাতন চালায়, এতে ভুক্তভোগীর মুখে ও গলায় জখম হয়।
বাড়ির লোকজনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত মিথুনকে আটক করেন। তবে আটকের খবর পেয়ে মিথুনের বাবা মাখন চন্দ্র দাস, ভাই টিপু ও চাচা অরুণ চন্দ্র দাসসহ স্বজনরা লাঠিসোঁটা ও দা নিয়ে বকুল দাসের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা জোরপূর্বক মিথুনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের বাবা বকুল দাস বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন—মিথুন দাস, তার বাবা মাখন চন্দ্র দাস, ভাই টিপু চন্দ্র দাস, চাচা অরুণ চন্দ্র দাস ও চাচাতো ভাই অরুপ দাস। রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্তের চাচা অরুণ চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্তসহ বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





