ইউরোপে পাঠানোর নামে প্রতারণা, সুনামগঞ্জে নিঃস্ব বহু পরিবার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উন্নত জীবনের আশায় জমি-জমা বিক্রি করে ও ঋণ নিয়ে অর্থ জোগাড় করা বহু তরুণ প্রতারণার শিকার হয়ে এখন নিঃস্ব।
ভুক্তভোগীদের একজন কামরুল মিয়া। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তার সংসার ছিল স্বচ্ছল। যুক্তরাজ্যে শ্রমিক হিসেবে যাওয়ার আশায় স্থানীয় এক দালালের সঙ্গে ২৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন তিনি। অভিযোগ, দালাল তানভীর আহমেদ খান কয়েক দফায় তার কাছ থেকে টাকা নেন এবং ভিসা ও বিমানের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেন, যা পরে জাল বলে প্রমাণিত হয়।
নির্ধারিত দিনে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে জানায়। এরপর থেকে অভিযুক্ত দালালকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি কামরুলের।
কামরুল বলেন, “জমি-জমা, ঘরবাড়ি সব বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। এখন ঋণের চাপে বাড়িছাড়া। কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
তার স্ত্রী রচনা বেগম বলেন, “আমরা ভালো ছিলাম। এখন ঋণের চাপে মানবেতর জীবন কাটছে।”
একই উপজেলার আরেক ভুক্তভোগী সিরাজ আলী অভিযোগ করেন, ছেলে ও পুত্রবধূকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ৩৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে তাকে দুটি চেক দেওয়া হলেও সেগুলোও জাল বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে এ ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তারা সিলেট শহরে ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত তানভীর আহমেদ খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্সবিহীন বা অনিয়মে জড়িত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




