আকাশে ডানা মেলায় অপেক্ষায় সিলেটের চা বাগানে ৮ স্বপ্ন কন্যা
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
চা-বাগানের সীমাবদ্ধ জীবন আর শ্রমিক পরিবারের কঠিন বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডানা মেলছেন সিলেটের লড়াকু ৮ চা-কন্যা। পূর্ণ বৃত্তি (ফুল স্কলারশিপ) নিয়ে তারা এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এ ইউ ডব্লিউ)-এ উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন করেছেন।
স্কলারশিপ প্রাপ্ত এই শিক্ষার্থীরা হলেন- মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা-বাগানের শ্রাবনী কৈরী, শ্রাবন্তী কৈরী, লাকি নাইডু ও পুনম লোহার; জুড়ী উপজেলার ধামাই চা-বাগানের অনিমা রানী পাল, চুনারুঘাট উপজেলার চাকলাপুঞ্জি চা-বাগানের সৃষ্টি চাষা, কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা-বাগানের প্রমা গোস্বামী ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা-বাগানের শতাব্দী হাজরা।
এরইমধ্যে তাদের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী মাসেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবেন।
জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এক বিশেষ উদ্যোগের ফলে চা-বাগানের পিছিয়ে পড়া মেধাবীদের আন্তর্জাতিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় ৮৫ জন চা-কন্যা পূর্ণ বৃত্তিতে পড়াশোনা করছেন।
এই কর্মসূচির আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এরইমধ্যে ১৫ জন স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে ৩ জন স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। কয়েকজন চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন, কেউ আবার বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়েছেন।
এদের মধ্যে একজন ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন, ২ জন যুক্ত হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। আরও কয়েকজন বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় স্কলারশিপ পাওয়া কুলাউড়ার লংলা চা-বাগানের ২ বোন শ্রাবন্তী কৈরী ও শ্রাবণী কৈরীর। তারা বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এ ধরনের স্কলারশিপ কর্মসূচি আমাদের চা -জনগোষ্ঠীর মেয়েদের জীবনে শুধু পরিবর্তনই আনছে না, বরং পুরো সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আশা তৈরি করেছে। আমাদের প্রত্যাশা — এ ধারা অব্যাহত থাকলে একদিন বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিবে আমাদের চা-কন্যারা।’
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, এটি কেবল উচ্চশিক্ষা নয়, বরং চা-বাগান সমাজে এক বিশাল সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা। যেখানে একসময় চা-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করাই ছিল চ্যালেঞ্জের, সেখানে আজ তারা বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন।





