শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জুন ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ‘যৌক্তিক পদ্ধতি’ নির্ধারণ করবে এই কমিটি।
শুক্রবার সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সম্প্রতি মাজারের দানবাক্স সিলগালা ও নতুন দানবাক্স স্থাপনকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাজারের উন্নয়ন, দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করবে।
মন্ত্রী বলেন, দরগাহর উন্নয়ন, দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, নতুন কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কমিটিই প্রচলিত নিয়মে দানের অর্থ গণনা করবে এবং তা মাজারের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতাওয়াল্লি পরিবারের দুই প্রতিনিধি এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে রয়েছেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে চান না। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন একটি পদ্ধতি গড়ে তুলতে চান, যাতে স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি সব পক্ষের অংশগ্রহণও থাকবে এবং কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়।
এর আগে সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মাজারের ঐতিহ্য, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মাজার কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। পরে ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন এবং পুরোনো তিনটি ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হলে গত রোববার তাঁকে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এর পরদিন মাজারে গিয়ে দানবাক্স ও ডেগ খুলে টাকা গণনা করা হয়। তখন জানানো হয়, আটটি ডেগ ও দানবাক্স থেকে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা স্বর্ণালংকার এবং ১০ সৌদি রিয়াল পাওয়া গেছে। এরপর থেকেই মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এম এইচ আ



