রাজনগরে যুবদল নেতাদের কবজায় ইজারাবিহীন বালুমহাল
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ জুন ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কালুমুহা, ধামাইছড়া, মারুয়া ছড়া, জমিলা ছড়া, হাড়ছড়াসহ ইজারাবিহীন বিভিন্ন বালুমহালে বালু লুটের মহোৎসব চলছে। জুলাই বিপ্লবের আগে আওয়ামী লীগের নেতারা ভোগ করলেও এখন সেসব বালুমহাল স্থানীয় যুবদলের নেতাদের কবজায়।
অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে স্থানীয় যুবদল নেতাদের নেতৃত্বে লুট হচ্ছে সরকারি বালু। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃতি, পরিবেশ-প্রতিবেশ। নষ্ট হচ্ছে বসতবাড়ি, ব্রিজ, রাস্তাঘাট, কৃষি জমি এবং স্থানীয় অবকাঠামো। প্রকাশ্যে বালু লুট হলেও উপজেলা ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্টরা নীরব। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের নীরবতায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলায় মোট ৮টি বালু মহাল রয়েছে। উদনা ছড়া, কালুমুহা, ধামাইছড়া, মারুয়া ছড়া, জমিলা ছড়া, হাড়ছড়া ও মনু নদ নামে এসব বালু মহালের মধ্যে শুধু মনু নদী ও উদনা ছড়া বালুমহাল ইজারা হচ্ছে। কিন্তু মামলা ও কালামুহা বালু মহাল উত্তরভাগ চা বাগান কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে লিজ প্রদান স্থগিত করলেও সেখানে প্রতিনিয়ত চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন।
গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এসব বালু মহাল ইজারা না হওয়ায় প্রতিবছর সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। এসব বালু মহাল ৫ আগস্ট ২০২৪ এর আগে আওয়ামীলীগ-যুবলীগ নেতদের দখলে থাকলেও বর্তমানে এসব বালু মহালে থাবা বসিয়েছেন স্থানীয় যুবদল নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরভাগ ইউনিয়নের যুবদল নেতা কয়েছ আহমদ ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের কয়েকজন যুবদল নেতার নেতৃত্বে কালুমুহা, ধামাইছড়া, মারুয়া ছড়া, জমিলা ছড়া, হাড়ছড়া থেকে বালু লুটের মহোৎসব চলছে। এদিকে বালুর টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মাঝে মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এসব বালু মহাল লিজ না হওয়া ও লুট করায় সরকার প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় যুবদল নেতা কয়েছ আহমদ বলেন, তিনি কোনো বালুমহাল দখলে নেননি। এখানে দুইতিন গাড়ি করে ছোট ছোট ভাইয়েরা কয়েকদিন তুলেছিল। বর্তমানে বিভিন্ন কারনে এটি বন্ধ আছে। আমরা চাইছিলাম সবে মিলেমিশে সমঝোতায় করবো কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। দু-এক গাড়ি করে উঠে। গ্রামের মানুষেরাও নিজেদের কাজের জন্য তুলে। ঢিপি করে রাখে। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে বন্ধ আছে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুসেফ খান বলেন, সরকারি বালু মহাল থেকে বালু তুলার বিপক্ষে আমি। আগেও এটা নিয়ে আমি বিরোধিতা করেছি। যারাই এটার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউনও) বিপুল সিকদার বলেন, বালু মহালগুলো দ্রুত ইজারা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এসব বালু মহাল থেকে কোনো সুবিধা নিচ্ছে না। হয়তো অন্যকেউ নিতে পারে। আমি পুলিশকেও বলেছি যারা বালু তুলে তাদের ধরে মোবাইল কোর্ট করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে অতি শিগিগির অভিযান পরিচালনা করা হবে।



