বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে ঝুঁকি, আবহাওয়া পূর্বাভাসে সচেতন হচ্ছেন অনেকেই
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ জুন ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-১২ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছিল। সেই দিনের ঘটনায় ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ তৈয়বের ছোট ছেলে সৈয়দ নূর মাটির নিচে চাপা পড়েছিল। চারদিকে তখন কান্না, চিৎকার আর আতঙ্ক। স্বজন ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাণপণ চেষ্টায় শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে, একই ঘটনায় প্রাণ হারান প্রতিবেশী ইমাম হোসেনের ছেলে মো. ছৈয়দ উল্লাহ।
ঘটনাটি এখন থেকে দুই বছর আগের হলেও এখনো বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে পরিবারগুলোতে পাহাড় ধসের শঙ্কা ফিরে আসে। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা বসতি, ঘনবসতি, দুর্বল অবকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বেড়ে যাওয়া চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি লাখো রোহিঙ্গাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তবে, পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে সচেতন হচ্ছেন কেউ কেউ।
সোমবার (২২ জুন) শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতে টেকনাফের আলীখালী ২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়। এতে বসতঘরে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে পড়েন শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার।
জলাবদ্ধতার কারণে বেড়েছে দুর্ভোগ:
ক্যাম্পগুলোতে টানা ও ভারী বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন নিচু এলাকা ও অভ্যন্তরীণ সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিচু স্থানে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি আশ্রয়কেন্দ্রের আশপাশে পানি জমে থাকায় দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরেও ঢুকে পড়ে।
১৫ নম্বর ক্যাম্প- এইচ ব্লকের বাসিন্দা ইউনুস খান বলেন, ‘‘কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় চারপাশে পানি জমে আছে। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরেও পানি ঢোকে। বিছানা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে গেছে। ছোট শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। অনেক সময় ঘরের বাইরে আশ্রয় নিতে হয়। আগে থেকে জানলে এমন হতো না। এখন থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস জেনে সচেতন হব।”
প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়
বিশুদ্ধ পানির সংকট, সচেতনতায় বদলাচ্ছে অভ্যাস:
বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশুদ্ধ পানির সংকটও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিচু এলাকার আশপাশে পানি জমে থাকায় দূষণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও নলকূপ ও পানি সংগ্রহস্থলের চারপাশ কাদাময় হয়ে পড়ায় নিরাপদ পানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তাওসীফ উদ্দিন মিজবাহ বলেন, “বর্ষা মৌসুমে দূষিত পানি থেকে নানা ধরনের রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই পানি অবশ্যই নিরাপদ উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করে পান করতে হবে। পানি সংরক্ষণের পাত্র সবসময় ঢেকে রাখতে হবে এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা গেলে বর্ষাকালীন অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
সচেতনতার এই বার্তা ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যেও। ক্যাম্প-১০-এর বাসিন্দা রাহমা খাতুন বলেন, “আগে বৃষ্টি হলে যে কোনো উৎসের পানি ব্যবহার করতাম। এখন স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ী পানি ফুটিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করি। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকি।”
ক্যাম্প-১৬-এর বাসিন্দা নুর কায়েদা বলেন, “বর্ষাকালে পানির উৎসের আশপাশে কাদা ও ময়লা জমে যায়। তাই এখন পানি সংগ্রহের আগে জায়গাটা দেখে নেই। বাসায় এনে ঢাকনাযুক্ত পাত্রে পানি রাখি, যাতে দূষিত না হয়।”
বর্ধিত ক্যাম্প-৪-এর বাসিন্দা নুরুচ্ছফা বলেন, “কয়েক বছর আগে আমাদের পরিবারে ডায়রিয়ার সমস্যা হয়েছিল। এরপর থেকে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়েছি। বৃষ্টি হলে পানি ফুটিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করি এবং প্রতিবেশীদেরও একই পরামর্শ দিচ্ছি।”
একই ক্যাম্পের নুর জাহান আরা বলেন, “বৃষ্টি হলে পানি সংগ্রহের সময় বেশি সতর্ক থাকি। পানি সংরক্ষণের পাত্র সব সময় ঢেকে রাখি।”
ক্যাম্প-৮-এর বাসিন্দা নারী রহিমুন্নেছা বলেন, “আগে আমরা সব সময় বুঝতাম না কোনো পানি নিরাপদ। এখন স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ী পানি ফুটিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করি এবং শিশুদেরও অপরিষ্কার পানি পান করতে দিচ্ছি না।”
আমেনা বিবি বলেন, “আগে অনেকেই অসুস্থ হতো। এখন বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে।”
আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে সচেতন হচ্ছে অনেকে:
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্র পাহাড় কেটে কিংবা পাহাড়ি ঢালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে টানা বা অতিভারী বৃষ্টিপাত হলে এসব ঢালের মাটি নরম হয়ে যায়, ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বিশেষ করে খাড়া ঢাল, আলগা মাটি এবং নিচু এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ায় এ শঙ্কা আরো তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।
ধসে পড়া পাহাড়ের পদদেশে রোহিঙ্গাদের একটি ঘর
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি শুধু প্রাকৃতিক কারণে তৈরি হয়নি; পাহাড় কাটা এবং দীর্ঘদিনের ভূমিরূপ পরিবর্তনও এর অন্যতম কারণ। অতিভারী বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ি ঢালের মাটি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধসের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।” তবে দুর্যোগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন অনেক রোহিঙ্গাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়ে উঠছেন।”
২০২৪ সালের পাহাড় ধসের সেই ঘটনার পর থেকেই মোহাম্মদ তৈয়ব এখন অনেক বেশি সচেতন। বর্ষা এলেই তিনি নিয়মিত মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখেন, বৃষ্টি বা ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা এলে পরিবারকে নিরাপদ স্থানে রাখার চেষ্টা করেন। রাতের বেলায় বৃষ্টি শুরু হলে তিনি সন্তানদের নিয়ে ঘর ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। তার এই সতর্কতা এখন ক্যাম্পের অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।
মোহাম্মদ তৈয়ব বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় যখন শুনলাম, আমার ছেলে মাটির নিচে চাপা পড়েছে, তখন মনে হয়েছিল আর হয়তো তাকে জীবিত ফিরে পাব না। আল্লাহর রহমতে সে বেঁচে গেছে। সেই দিনটা আমাকে বদলে দিয়েছে। এখন বৃষ্টি হলেই আমি আর আগের মতো অবহেলা করি না।’’
তিনি বলেন, “আগে আমরা বৃষ্টি হলে শুধু ভয় পেতাম, এখন জানি কী করতে হবে। এখন আমি শুধু আমার পরিবার না, অন্যদেরও সতর্ক করি।’’
উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ-১৬ ব্লকের ইমাম হোসেনে বলেন, “আমার ছেলে মো. ছৈয়দ উল্লাহ পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হলেই আমি মোবাইলে আবহাওয়ার খবর দেখি। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে পরিবারের সবাইকে সতর্ক রাখি।”
ক্যাম্প-৯-এর বাসিন্দা জাহান আরা বেগম বলেন, “বৃষ্টি শুরু হলে আমরা সবচেয়ে বেশি ভয় পাই পাহাড়ধসের। রাতের বেলা বৃষ্টি হলে ঘুমাতে পারি না। সব সময় মনে হয় কখন মাটি ধসে পড়ে। তবে, এখন মাইকিং করা হয়। মাইকিং হলে আমরা নিরাপদ স্থানে সরে যাই।”
ক্যাম্প-১১-এর বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “গত বছর বৃষ্টিতে আমাদের ঘরের পাশের মাটি সরে গিয়েছিল। বৃষ্টি বাড়লে আমরা চিন্তায় থাকি। কোথায় যাব, সেটাও বুঝতে পারি না। আগের মতো অবহেলা করে ঘরের কোণে বসে থাকি না। বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হলেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ি এবং আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় চলে যাই।’’
আবদুল হাকিম বলেন, “আগে আমরা শুধু আকাশ দেখে বৃষ্টি আন্দাজ করতাম। এখন স্বেচ্ছাসেবকরা সতর্কবার্তা দিলে গুরুত্ব দেই। আবহাওয়ার খবর শুনে প্রয়োজন হলে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করি।”
ক্যাম্প-৪-এর বাসিন্দা রোহিঙ্গা নারী রাশেদা খাতুন বলেন, “বৃষ্টি ও ঝড়ের খবর জানলে শিশুদের বাইরে যেতে দেই না। এখন অনেক নারীও আবহাওয়ার সতর্কবার্তা সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমে।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবহাওয়া বার্তা যেভাবে পৌঁছায়:
ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের কাছে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা কিংবা ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ক্যাম্পের হাটবাজার, মসজিদসংলগ্ন এলাকা এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে মাইকিং করা হয়।
প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করেন এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা, বিভিন্ন তথ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম, কমিউনিটি নেতা এবং প্রতিবেশীদের মাধ্যমেও আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সম্ভাব্য দুর্যোগ সম্পর্কে আগাম ধারণা পেয়ে মানুষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান।
উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা শওকত উল্লাহ বলেন, “প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের কাছে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। ক্যাম্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাইকিং করা হলে আমরা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ধস কিংবা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পারি। এছাড়া এখন স্বেচ্ছাসেবকেরা বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আগাম তথ্য পাওয়ায় আমরা আগে থেকেই সতর্ক হতে পারি এবং পরিবার-পরিজনকে নিরাপদে রাখার প্রস্তুতি নিতে পারি।”
একই ক্যাম্পের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘মাইকিংয়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, কমিউনিটি নেতা এবং প্রতিবেশীদের মাধ্যমে আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারি। কেউ কোনো সতর্কবার্তা পেলে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যদের জানিয়ে দেন। বিশেষ করে টানা বর্ষণের সময় পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে সবাই একে অপরকে সতর্ক রাখার চেষ্টা করেন। তথ্য পাওয়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ যারা প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে পারেন।’’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, “টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ও পানিবন্দি এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।”
বজ্রপাতের সময় করণীয়:
বর্ষা মৌসুমে কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এ সময় অসতর্কতার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। তাই বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলা এবং আগাম সতর্কতা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘‘গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতের প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও বর্ষা মৌসুমেও কক্সবাজার অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটে। তাই বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই সবাইকে সতর্ক হতে হবে এবং দ্রুত কোনো ছাউনিযুক্ত বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। বজ্রপাতের সময় বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বিদ্যুতের তারের কাছাকাছি অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ দমকা বাতাসের কারণে গাছের ডাল ভেঙে পড়া বা বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়াই উত্তম।’’
তিনি বলেন, ‘‘বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করলেও সতর্ক থাকতে হবে। টেলিভিশন, ফ্রিজ, রাউটার, কম্পিউটারসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত রাখতে হলে শুধু সুইচ বন্ধ করলেই হবে না, প্লাগ খুলে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। পাশাপাশি শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থদের নিরাপদ স্থানে রাখার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করলে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।’’
২০২৪ সালের ১৯ জুন টানা ভারী বর্ষণের ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮, ৯, ১০ ও ১৪-এ পাহাড়ধসে মোট ১০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ৯ জন রোহিঙ্গা এবং ১ জন বাংলাদেশি শিশু ছিল। এরপর ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর পাহাড়ধসে এক রোহিঙ্গা শিশু মারা যায়।
এম এইচ আ



