নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দেবে যাচ্ছে ৯ কোটি টাকার সড়ক
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জুন ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় দেবে যেতে শুরু করেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি-দমদমা সড়কের একটি বড় অংশ। প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। সূতি নদীর ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে সড়কের অংশবিশেষ নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী এবং ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সূতি নদীঘেঁষা চিনাশুকানিয়া গ্রামের অংশে সড়কের একাধিক স্থানে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অংশ দেবে গিয়ে সড়ক সরু হয়ে পড়েছে। তীরে বসানো সুরক্ষা ব্লকও ভেঙে এলোমেলোভাবে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বড় একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
উপজেলার মানুষের সঙ্গে জেলা শহরের সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২০২১ সালে রাজাবাড়ি থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দরপত্রের মাধ্যমে মেসার্স সালাম ট্রেডার্স কাজটির দায়িত্ব পায়। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা শেষ হয় ২০২৬ সালে।
দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “নির্মাণের আগে নদীর তীর দ্রুত বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে তার ওপর সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ভরাট করা মাটি পুরোপুরি না বসায় এখন সড়ক দেবে যাচ্ছে। যেভাবে ধস নামছে, তাতে কয়েক দিনের মধ্যেই বড় অংশ নদীতে চলে যেতে পারে।”
চিনাশুকানিয়া গ্রামের বাসিন্দা লতিফুর রহমান জানান, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই এলাকাবাসী আপত্তি জানিয়েছিলেন। ব্লকগুলো যথাযথভাবে স্থাপন না করে ভিটবালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে। ফলে একে একে সব ব্লকের সংযোগ খুলে যাচ্ছে এবং নদীতে পড়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন ভয়ভীতি ও হুমকি দিতো।”
একই গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন আজাদ বলেন, “প্রায় পাঁচ বছর পর নির্মাণকাজ শেষ হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই সড়ক দেবে যাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম বলেন, “নির্মাণ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল উত্তোলন করা হলেও দুই বছর পর্যন্ত জামানতের অর্থ সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজন হলে যতবার ক্ষতি হবে, ততবারই মেরামত করা হবে।
তবে বারবার ভাঙা আর বারবার সংস্কার করাই কি গ্রহণযোগ্য সমাধান?-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
শ্রীপুর এলজিইডির প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ বলেন, “সড়ক দেবে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বর্ষাকাল হওয়ায় স্থায়ী সংস্কারকাজ সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ শতাংশ জামানতের অর্থ, যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা, সংরক্ষিত রয়েছে। সেই অর্থ থেকেই প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ করা হবে। একই সঙ্গে নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এম এইচ আ



