হাওরের ক্ষতি মোকাবিলায় ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে শিশির মনিরের স্মারকলিপি
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ মে ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
হাওর অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি দেন তিনি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলের বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সুনামগঞ্জেই প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ধান প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত মেট্রিক টন ধান ভিজে অঙ্কুরিত ও পচে নষ্ট হয়েছে। সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্মারকলিপিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—কৃষকদের জন্য সরকারি আর্থিক ও খাদ্য সহায়তার মেয়াদ তিন মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা, কৃষিঋণের কিস্তি মওকুফ ও সুদ হ্রাস, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া, গবাদিপশুর খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা, দ্রুত ফসল কাটার উদ্যোগ নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—হাওর অঞ্চলের পানি প্রবাহ ব্যবস্থার সমন্বিত পর্যালোচনা, নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন, হাওর রক্ষা বাঁধের মানোন্নয়ন, আধুনিক স্লুইস গেট নির্মাণ, বজ্রপাত প্রতিরোধে টাওয়ার স্থাপন, বন্যা সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন, কৃষি বিমা চালু এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ।
স্মারকলিপিতে শিশির মনির বলেন, হাওর অঞ্চলের মানুষ প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হন। তাই শুধু ত্রাণ নয়, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষি ও জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।




