পাথর উত্তোলনে ধ্বংস শাহ আরেফিন টিলা, হারাচ্ছে পরিবেশ ও ঐতিহ্য
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ মে ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
সিলেটের শাহ আরেফিন টিলায় দীর্ঘদিনের অবৈধ পাথর উত্তোলনে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। একসময় সবুজে ঘেরা সুউচ্চ এই টিলাজুড়ে এখন অসংখ্য গভীর গর্ত। স্থানীয়দের ভাষায়, টিলা এখন ‘সাগরে’ পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনের দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্যদের যোগসাজশে বছরের পর বছর ধরে এখানে পাথর উত্তোলন চলছে। নিষিদ্ধ ‘বোমা মেশিন’ ব্যবহার করে রাতের আঁধারে পাথর তুলে ভোলাগঞ্জের ক্রাশার মিলে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিলায় অন্তত শতাধিক গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গভীরতা ২০০ থেকে ৩০০ ফুট। এতে আশপাশের বসতভিটাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শুধু পরিবেশ নয়, হারিয়ে যাচ্ছে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যও। লোকমুখে প্রচলিত আছে, প্রায় ৭০০ বছর আগে Hazrat Shah Arefin এই টিলায় অবস্থান করেছিলেন। পরে সেখানে আস্তানা, মসজিদ ও কবরস্থান গড়ে ওঠে। অবৈধ পাথর উত্তোলনে এসব স্থাপনার বড় অংশ বিলীন হয়ে গেছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ধ্বংসযজ্ঞ থামছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের আগের এক প্রতিবেদনে টিলাটিকে ‘কঙ্কাল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন শতাধিক ট্রলি ও ট্রাক্টরে করে পাথর পরিবহন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এ কাজে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত। যদিও সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অবৈধ পাথর উত্তোলনের ঘটনায় অতীতে প্রাণহানিও ঘটেছে। পরিবেশবাদীদের তথ্যমতে, গর্ত ধসে বহু শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
দুদকও অবৈধভাবে শত কোটি টাকার পাথর উত্তোলনের অভিযোগে মামলা করেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এখনো দৃশ্যমান নয়।





