সুনামগঞ্জে করচার হাওরে ধানের দুই চিত্র, কোথাও স্বস্তি কোথাও বড় ক্ষতি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ মে ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের করচার হাওর–এ এবার বোরো মৌসুমে কৃষকদের অভিজ্ঞতা একেবারে ভিন্ন দুই চিত্র তুলে ধরেছে। হাওরের উত্তরাংশের কৃষকরা আগাম ধান কেটে তুলনামূলক কম ক্ষতির মুখে পড়লেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের অনেক কৃষক জলাবদ্ধতা ও টানা বৃষ্টিতে বড় ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, মূল ক্ষতি হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর। এপ্রিলের শেষ দিকের টানা বৃষ্টিতে ধান শুকাতে না পারায় অঙ্কুর গজিয়েছে, পচে গেছে ধান ও গবাদিপশুর খড়।
বিশ্বম্ভরপুর ও মুক্তিখলা এলাকার কৃষকরা জানান, তারা আগাম পাকার বিআর-৯৬ ও বিআর-৮৬ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। চৈত্রের শেষ সপ্তাহেই ধান কেটে ফেলতে পারায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অনেকেই প্রতি কিয়ারে ১৫ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন।
মুক্তিখলা গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, আগাম ধান কাটতে পারায় তার ক্ষতি খুব কম হয়েছে। একই গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুস জহুরও জানান, সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারায় তার ধান ও খড় দুটিই রক্ষা পেয়েছে।
তবে হাওরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে চিত্র ভিন্ন। সদর উপজেলার নোয়াগাঁও, হরিনগর ও নল্লুয়া এলাকার কৃষকদের বড় অংশের জমি জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। যারা পরে ধান কেটেছেন, তাদের অনেকের ধান বৃষ্টিতে ভিজে অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হয়েছে।
নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, তার কয়েক কিয়ার জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। যা কাটা হয়েছিল, তারও বড় অংশ নষ্ট হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, নিচু এলাকা হওয়ায় এসব অঞ্চলে ধান পাকতে দেরি হয় এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বেশি থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আগাম পাকার ধান চাষ করায় করচার হাওরের উত্তরাংশের কৃষকরা সুবিধা পেয়েছেন। বিপরীতে বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ জাতের ধান বিলম্বে পাকায় অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এখন পর্যন্ত হাওরের ৮০ শতাংশের বেশি ধান কাটা হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা ও বৃষ্টির কারণে জেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।





