বিশ্বম্ভরপুরে মোটরসাইকেল চালককে জবাই করে হত্যা
বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় আনছর আলী (২৮) নামে এক ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালককে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামের পূর্ব পাশের একটি হাওর থেকে তাঁর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আনছর আলী সলুকাবাদ ইউনিয়নের চালবন গ্রামের মো. মানিক মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আনছর আলী পেশায় মোটরসাইকেল চালক ছিলেন এবং ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি পাশের ভাদেরটেক গ্রামের দুজন শ্রমিককে যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় এলাকায় নিয়ে যান। বিকেলে তাঁদের পুনরায় ভাদেরটেক বাজারে পৌঁছে দেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে ভাদেরটেক বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় তাঁকে নাস্তা করতে দেখেছেন স্থানীয়রা। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে যাননি এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন ভাদেরটেক বাজার থেকে মণিপুরী ঘাট যাওয়ার পথে হাওরের একটি ভুট্টা ক্ষেতে আনছর আলীর গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তবে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ভাদেরটেক বাজার এলাকা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে।
ভাদেরটেক গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই জানান, আনছর আলী খুবই পরিচিত মুখ ছিলেন। সকালে হাওরে তাঁর মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের মামা দ্বীন ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নে সহজ-সরল ছেলে ছিল। মঙ্গলবার রাতে বাড়ি না ফেরায় আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সকালে খবর পাই হাওরে তাঁর গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে। তাঁর গলায় ও শরীরের পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমাদের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। মরদেহের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।




