অবৈধ হাট নিয়ে শঙ্কা, এবার সিলেটে বসছে কোরবানির ৫ অস্থায়ী পশুর হাট
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ মে ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ

সিলেট মহানগরীতে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নির্ধারিত এসব স্থানে স্বাস্থ্যসম্মত ও সুশৃঙ্খলভাবে হাট পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হলেও ইজারা প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটের প্রভাব ও অবৈধ হাট বিস্তারের আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৮ মে ২০২৬ থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত মোট ৯ দিন হাটগুলো চলবে। স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন খালি জায়গা, নতুন টুকের বাজার তেমুখী পয়েন্ট, মিরাপাড়া, শাহপরাণ বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং দক্ষিণ সুরমার তেতলির এস ফন্ট মাঠ।
নগরবাসীর একটি অংশ নির্ধারিত হাট চালুর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এতে যানজট, বিশৃঙ্খলা এবং আবাসিক এলাকায় পশুর অস্বাস্থ্যকর অবস্থান কিছুটা কমবে। সিসিকের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ রাখার সিদ্ধান্তকেও তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
তবে প্রতিবছরের অভিজ্ঞতা থেকে এবারও উদ্বেগ কমছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল কম দামে হাট ইজারা নিয়ে পরে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এতে সরকার সম্ভাব্য বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
অন্যদিকে, নির্ধারিত হাটের বাইরে নগরের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও অলিগলিতে গড়ে ওঠা অবৈধ পশুর হাট নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। এসব হাটে কোনো রাজস্ব আদায় হয় না, বরং এখানেই বেশি অনিয়ম ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের। অনেক সময় দূর থেকে আসা পশুবাহী ট্রাকও নির্ধারিত হাটে না গিয়ে এসব অবৈধ হাটে চলে যায়, ফলে খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং ক্রেতারাও প্রতারণার শিকার হন।
অবৈধ হাটের কারণে যানজট, পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগও বাড়ে কয়েকগুণ।
এবার এসব অনিয়ম ঠেকাতে সিসিক ইজারা শর্তে কঠোরতা এনেছে। হাট সাব-লিজ দেওয়া যাবে না, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে হাট বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্বও ইজারাদারকে দেওয়া হয়েছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করবে প্রশাসন। তা না হলে সিন্ডিকেট, অবৈধ হাট ও রাজস্ব ফাঁকির পুরোনো সমস্যাই আবারও ঘুরে আসবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।




