স্ত্রী হত্যার দায়ে দোয়ারাবাজার নরসিংপুরের গৌছ আলী’র মৃত্যুদন্ড
সোহেল মিয়া,দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ)
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জুলাই ২০২৩, ৩:৪৭ অপরাহ্ণসুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের দ্বীনেরটুক গ্রামে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে গৌছ আলী নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন সুনামগঞ্জ আদালত।
মৃত্যুদন্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ আদালতের নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পি.পি নান্টু রায়।
বুধবার (৫ জুলাই) সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি গৌছ আলী (৪৫) দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের দ্বীনেরটুক গ্রামের মখলিছ আলীর ছেলে । রায় প্রদানের সময় আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামী গৌছ আলী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ফাতেমাপুর গ্রামের মোস্তফা মিয়ার বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশোনা করতেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ির মালিক মোস্তফা মিয়ার মেয়েদেরকে পড়াতেন। এতে কলি বেগমকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হন এবং পরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই কলির কাছে যৌতুক দাবি করতে শুরু করে গৌছ আলী। বিভিন্ন সময়ে তাকে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা প্রদান করে কলির বাবার বাড়ির লোকজন।
উল্লেখ্য,২০০৫ সালের ৫ জুন কলিকে যৌতুকের টাকার জন্য কলি বেগমকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠান স্বামী গৌছ আলী। বাবার বাড়ি থেকে টাকা না নিয়ে আসায় আবারও মারপিট করে এবং এক পর্যায়ে কলি বেগম মারা যান। পরে হত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মৃত স্ত্রী কলির মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজায় স্বামী গৌছ আলী। এ ঘটনায় মৃত কলির বাবা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ আদালতে মামলা করলে দীর্ঘ বিচারীক কার্যক্রম শেষে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। অপর আসামি আব্দুল খালেক এর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।
এদিকে এই রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী পক্ষ।
এবিষয়ে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু ধমন ট্রাইব্রুনালের পিপি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন হলেও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট।
সারাদেশসংবাদ/হান্নান





