এক বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ জব্দ
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান বা মামলার তদন্ত চলাকালে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ জব্দ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে আদালতের ৩৭০টি আদেশের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে মোট ৩০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানান, জব্দ করা সম্পদের বড় অংশের দুর্নীতির অভিযোগ এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত কর্মকর্তা যদি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তদন্তাধীন সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা রূপান্তরের চেষ্টা করছেন, তাহলে আইন অনুযায়ী আদালতের কাছে ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার আবেদন করা হয়। আদালতের অনুমতি মিললেই সম্পদ জব্দ করা সম্ভব হয়।
দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আদালতের ২২১টি আদেশে দেশে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি ২২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৭ টাকা এবং বিদেশে ৯৬ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ২৫ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ৯৭৯ একর জমি, ৯১টি বাড়ি, ৫৯টি ভবন, ১৯২টি ফ্ল্যাট, ৬০টি প্লট, ৪৫০টি গাড়ি, ১৪টি কমার্শিয়াল স্পেস, ১০টি দোকান, ২টি মার্কেট, ২টি জাহাজ ও একটি শটগান। বিদেশে ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে আছে ২টি ফ্ল্যাট, ৮টি গাড়ি ও ২টি বাড়ি-যার মোট মূল্য ৯৬ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ২৫ টাকা।
অন্যদিকে আদালতের ২৫৬টি আদেশে দেশে ২৩ হাজার ১৭২ কোটি ৭৮ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৬ টাকা এবং বিদেশে ৯৪৪ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার ৯১৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দেশে অবরুদ্ধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ৮৪৭টি ব্যাংক হিসাব, ১০৭টি সঞ্চয়পত্র, বিভিন্ন কোম্পানির ৬০ কোটি ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯৯৭টি শেয়ার, ৪০টি এফডিআর, ৫টি লকার, ৩২১টি পে-অর্ডার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, বিদেশি মুদ্রা (ডলার ও ইউরো) এবং স্বর্ণ। বিদেশেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ রয়েছে।
দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার পর সেগুলোর দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আদালত রিসিভার নিয়োগ দেন। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে রিসিভার করা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্ব দুদকের কাছেও ন্যস্ত থাকে। অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিসিভার নিয়োগ করা হয়। রিসিভাররা জব্দ সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে নির্দিষ্ট সময় পরপর আদালতে হিসাব দাখিল করেন।
দুর্নীতির সাড়ে ৩ হাজার মামলা: এদিকে সারা দেশে দুর্নীতির ৩ হাজার ৪৯৮টি মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ৪০৬টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত আছে। স্থগিত মামলাগুলো বাদ দিলে কমিশন আমলে দায়ের হওয়া মামলার মধ্যে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে ৯৩৭টি এবং ঢাকার বাইরে ২ হাজার ২২৭টি মামলা বিচারাধীন।
২০০৪ সালে কমিশন গঠনের আগে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর করা মামলার মধ্যে ঢাকায় ১০৩টি এবং ঢাকার বাইরে ২৩১টি মামলার বিচার এখনো চলছে।
দুর্নীতির মামলায় সাজা বেড়েছে : দুর্নীতির মামলায় সাজার হারও বেড়েছে। গত বছর কমিশনের মামলায় বিচারিক আদালতে সাজার হার ছিল ৫০ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম মাসে তা বেড়ে ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দুদকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জানুয়ারিতে ১৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টিতে আসামিরা সাজা পেয়েছেন, ৩টিতে খালাস পেয়েছেন এবং বাকি ২টি মামলা অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে।
তবে ব্যুরোর আমলে করা মামলায় সাজার হার এখনো ৫০ শতাংশ। গত জানুয়ারিতে ব্যুরোর আমলের ৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে; এর মধ্যে ৪টিতে সাজা হয়েছে এবং বাকি ৪টিতে আসামিরা খালাস পেয়েছেন।




