সাত্তার-সুরাইয়া হত্যা: দ্বিতীয়বার সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : 02 September 2026, 7:11 PM
সিলেটের রায়নগরে আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার দাবি করেছেন নিহত দম্পতির সন্তানেরা। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁরা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট মহানগরের জল্লারপার এলাকার খান হাউসে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই—এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার।’ মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. সালাহউদ্দিনের সঙ্গে তাঁরা দেখা করে বিষয়টি জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন এবং তদন্ত দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তাঁরা।
নিহত দম্পতির মেয়েরা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে তাঁরা আশাবাদী, তাঁরা সঠিক বিচার পাবেন। একই সঙ্গে দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য সিলেটের সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁরা। ন্যায়বিচারের দাবিতে সিলেটবাসীর সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্যও তাঁরা ধন্যবাদ জানান। সিলেটের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু বলেন, এজাহারে তাঁরা নির্দিষ্ট করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। তাঁদের বাবার একটি জায়গা নিয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে বিরোধ রয়েছে—শুধু বিষয়টি তাঁরা পুলিশের নজরে এনেছেন। ওই আইনজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করার দায়িত্ব পুলিশের।
তাঁরা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও যদি সুষ্ঠু বিচার না পান, তাহলে পরবর্তী সময়ে আবার সংবাদ সম্মেলন করে সিলেটবাসীকে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।
গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আব্দুস সাত্তার আওয়ামী লীগের নেতা এবং সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের দিনই বাবুল মিয়া নামে এক রংমিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বাবুল মিয়া। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ প্রথমে বাবুল মিয়ার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বাবুল দাবি করেন, টাকা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর তিনি তিনজনকে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর, ১৭ আগস্ট, নিহত দম্পতির প্রবাসী ছেলে-মেয়েরা নিজেদের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন। তখন তাঁরা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছিলেন তাঁরা।
এদিকে গত সোমবার এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি’। সংবাদ সম্মেলনে কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বাবুল মিয়ার কাছ থেকে জোর করে জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে।
এম এইচ আ



