সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের সুষ্ঠ তদন্ত ও এডভোকেট সিরাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : 31 August 2026, 9:05 PM
সিলেট নগরীর রায়নগরের নিজ বাসভবনে মরহুম আবদুস সাত্তার, তাঁর সহধর্মিণী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি’।
সোমবার নগরীর এক রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটির সমন্বয়ক মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারে নির্মাণাধীন ইম্পালস টাওয়ারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। গত প্রায় ২০ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। মরহুম আবদুস সাত্তার চলমান ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও দুর্নীতির মামলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীও ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
মরহুম এম এ সাত্তার ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক জিআর ০২/২০২১) অন্যতম প্রধান সাক্ষী। দীর্ঘদিন ধরে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
বিগত ১২ আগস্ট তারিখে নিহত এম সাত্তার সাহেব দুদক জিআর ০২/২০২১নং মামলার একজন অন্যতম স্বাক্ষী ছিলেন এবং সাত্তার সাহেব কোতোয়ালী সিআর ১৩৬৪/২০২৩, কোতেয়ালী সিআর ৮১৫/২০২৪ এবং স্বত্ত্ব ২১১/২০২৩ নং মামলার বাদী ছিলেন।
বক্তারা জানান, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সঙ্গীয় সন্ত্রাসী নিয়ে লীজ গ্রহীতা এম এ সাত্তার সাহেবের রয়নগরের বাসায় গিয়ে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি সিলেট ভূমির মালিকানা দাবী করে ২১১/২০২৩ নং স্বত্ত্ব মামলা প্রত্যাহারের জন্যে বলেন। কিন্তু এম এ সাত্তার এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের দাবী প্রত্যাখান করলে সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত সকলকে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকলে এম এ সাত্তার সাহেবের কন্যা যুক্তরাজ্য প্রবাসী সেলিনা সুলতানা বিগত ০৯/০২/২০২৫ ইং তারিখে কোতেয়ায়ালী মডেল থানায় ৮৪২নং সাধরণ ডায়রী করেন এবং এ ঘটনার মোবাইলে রেকর্ড আছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ মে ২০২৫ তারিখে আদালত প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম কর্তৃক হামলায় আহত হয়ে মরহুম এম এ সাত্তার ও তৌহিদুল ইসলাম সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। যার প্রেক্ষিতে কোতোয়ালী সিআর ১০৫৭/২০২৫ নং মামলা বর্তমানে ডিবি সিলেটে তদন্তাধীন।
বক্তারা জানান, ৫৬৪/৯৬ নং ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ১৮৫২২/২০০৬ নং জাল ও অবৈধ দলিল তৈরি করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির মালিকানাধীন জায়গা দখল করে বহুতল ‘ইম্পালস টাওয়ার’ নির্মাণ করেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি অ্যাক্ট ১৯৪৭ (ধারা ১০ ও ৭/৫) এবং স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট ১৯৫০ (ধারা ৯০/৫) অনুযায়ী, গির্জা ও কবরস্থান শ্রেণির এই নিষ্কর ভূমি সম্পূর্ণ অ-হস্তান্তরযোগ্য। এসএ রেকর্ডেও স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে এটি খ্রিষ্টান সাধারণের ব্যবহার্য গির্জা ও কবরস্থান। অতিরিক্ত যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত (স্বত্ব ৩৭/২০১২) ১৮৫২২/২০০৬ এবং ১৪০৬২/২০০৫ নং দলিল দুটিকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ৪৮৪/২০১৪ নং ফার্স্ট আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।
ভূমি জালিয়াতি ও কবরস্থানকে বেআইনিভাবে ‘বাড়ি’ শ্রেণিতে পরিবর্তনের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সিরাজুল ইসলাম, তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার ও ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক জিআর ০২/২০২১ নং মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিচার বিভাগের প্রতি এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত সম্পাদন, তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে অবহিতকরন, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা প্রদান, ভূমি-সংক্রান্ত সব নথি যাচাই, অবৈধ দখল ও জাল দলিলের অভিযোগ তদন্ত করার আহবান জানানো হয়। সেইসাথে নিহত আবদুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম ও তাহমিনা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য নিরপেক্ষভাবে প্রকাশের আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, এম এ সাত্তার সাহেবের নিহতের ঘটনা কেন্দ্র করে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার জন্যে মামলার তদন্ত কার্যক্রমকে বিভ্রান্ত করার জন্যে কিছু সংখ্যক ফেইক ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
বক্তারা আরো জানান, এ সংবাদ সম্মেলনের কার্যক্রম কোন ব্যক্তি অথবা সংস্থার বিরুদ্ধে নয় এবং এই কার্যক্রম কেবলমাত্র ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যে লীজ গ্রহীতা এম এ সাত্তার সাহেবের খুনের প্রকৃত খুনীদের সনাক্ত করে সঠিক তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের নিমিত্তে এই আয়োজন। আমরা চাই নিহত এম এ সাত্তার খুনের ঘটনার সত্যতা প্রকাশিত হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায় বিচারের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। সেইসাথে সংখ্যালঘু লুসাই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ভূমি দখলকারী সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যাতে লুসাই সম্প্রদায় তাদের জায়গায় শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনাসহ ভোগদখল করতে পারে।
এম এইচ আ



