ছয় মাসে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়েছেন ২,৫৭৮ বাংলাদেশি
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : 31 August 2026, 9:13 PM
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ২ হাজার ৫৭৮ বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন জানুয়ারি থেকে মার্চ—প্রথম প্রান্তিকে এবং ১ হাজার ৯৫ জন এপ্রিল থেকে জুন—দ্বিতীয় প্রান্তিকে আশ্রয় চেয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৬৪৯ জন ছিলেন মূল আবেদনকারী এবং ৯২৯ জন নির্ভরশীল সদস্য। অর্থাৎ মোট আবেদনকারীর প্রায় ৬৪ শতাংশ মূল আবেদনকারী এবং ৩৬ শতাংশ নির্ভরশীল।
প্রথম প্রান্তিকে মূল আবেদনকারী ছিলেন ৯৪৬ জন এবং নির্ভরশীল ৫৩৭ জন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৭০৩ ও ৩৯২ জনে। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূল আবেদনকারী ২৪৩ জন এবং নির্ভরশীল ১৪৫ জন কমেছেন।
হোম অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, আশ্রয়ের আবেদন বলতে কোনো ব্যক্তির যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থায় প্রবেশ করাকে বোঝায়। কোনো আবেদনে পরিবারের সদস্যরা নির্ভরশীল হিসেবে যুক্ত থাকলে এক আবেদনের আওতায় একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তবে পরিসংখ্যানে মূল আবেদনকারী ও নির্ভরশীল—উভয়কেই আলাদা ব্যক্তি হিসেবে গণনা করা হয়েছে।
তরুণদের সংখ্যাই বেশি
বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বয়সভিত্তিক গোষ্ঠী ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা। প্রথম ছয় মাসে এ বয়সের ১ হাজার ১৪৪ জন আশ্রয় চেয়েছেন, যা মোট আবেদনকারীর ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
এরপর রয়েছে ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৮৩১ জন। তাঁরা মোট আবেদনকারীর ৩২ দশমিক ২ শতাংশ। সব মিলিয়ে ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী আবেদনকারীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৭৫ জন, যা মোটের ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা প্রথম প্রান্তিকে ৬৫৯ জন থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে ৪৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা ৪৭৩ থেকে কমে হয়েছে ৩৫৮ জন।
এ ছাড়া ১৭ বছর বা তার কম বয়সী ৫৫৪ জন বাংলাদেশি আশ্রয় চেয়েছেন। তাঁরা মোট আবেদনকারীর প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। ৫০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী ছিলেন ৩৮ জন এবং ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী ছিলেন ১১ জন।
পুরুষের সংখ্যা বেশি
বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। মোট ২ হাজার ৫৭৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৫২৭ জন, যা ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ। নারী ছিলেন ১ হাজার ৫১ জন বা ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ।
প্রথম প্রান্তিকে ৮৯৪ জন পুরুষ ও ৫৮৯ জন নারী আশ্রয়ের আবেদন করেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে পুরুষ আবেদনকারীর সংখ্যা কমে ৬৩৩ এবং নারী আবেদনকারী ৪৬২ জনে দাঁড়ায়।
দুই প্রান্তিকের তুলনায় পুরুষ আবেদনকারী কমেছেন ২৬১ জন বা ২৯ দশমিক ২ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে কমেছে ১২৭ জন বা ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।
১৭ বছর বা তার কম বয়সী ৫৫৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র চারজন ছিলেন মূল আবেদনকারী। বাকি ৫৫০ জন ছিলেন নির্ভরশীল।
প্রথম প্রান্তিকে এ বয়সী ৩২২ জনের মধ্যে ৩২০ জন নির্ভরশীল এবং দুজন মূল আবেদনকারী ছিলেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৩২ জনের মধ্যে ২৩০ জন নির্ভরশীল ও দুজন মূল আবেদনকারী ছিলেন।
অন্যদিকে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে দুই প্রান্তিকে মূল আবেদনকারী ছিলেন ৯৫৪ জন এবং নির্ভরশীল ১৯০ জন। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মূল আবেদনকারী ছিলেন ৬৫০ জন এবং নির্ভরশীল ১৮১ জন।
যুক্তরাজ্যে ঢোকার পরই আবেদন
বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের প্রায় সবাই যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর দেশটির ভেতর থেকেই আবেদন করেছেন। প্রথম ছয় মাসে মোট ২ হাজার ৫৭৮ জনের মধ্যে ২ হাজার ৫৫৪ জন যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে আবেদন করেন। আর কোনো প্রবেশবন্দর থেকে আবেদন করেন ২৪ জন।
প্রথম প্রান্তিকে বন্দরে আবেদন করেন ১৮ জন এবং যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে আবেদন করেন ১ হাজার ৪৬৫ জন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বন্দরে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ছয়জন এবং দেশের ভেতর থেকে আবেদন করেন ১ হাজার ৮৯ জন।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রায় সবাই ছিলেন সাধারণ শ্রেণির আবেদনকারী। প্রথম প্রান্তিকে কোনো ‘আনঅ্যাকম্পানিড অ্যাসাইলাম-সিকিং চাইল্ড’ (UASC) রেকর্ড করা হয়নি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে একজন UASC রেকর্ড করা হয়েছে।
হোম অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, UASC হলো এমন শিশু, যে কোনো অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবক ছাড়া যুক্তরাজ্যে আসে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড হওয়া ওই আবেদনকারী ছিলেন ১৭ বছর বা তার কম বয়সী একজন পুরুষ এবং তিনি যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে আবেদন করেন।
শীর্ষ ছয় দেশের একটি বাংলাদেশ
এদিকে ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষ ছয় দেশের মধ্যে রয়েছে।
এ তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে পাকিস্তান, ইরিত্রিয়া, ইরান, সুদান ও আফগানিস্তান। এই ছয় দেশের নাগরিক মিলে ওই সময়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাওয়া মোট মানুষের ৪৬ শতাংশ।
এম এইচ আ



