কফিনবন্দী ৫ প্রবাসী ফিরলেন দেশে, কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বজনরা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জুন ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে কফিনবন্দী মরদেহগুলো সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। ভোর থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন নিহতদের স্বজনরা। কফিনবন্দী মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় নিহতদের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেকও তুলে দেওয়া হয়।
বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি এলাকায় নেওয়া হয়। মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের আকুনি মাদ্রাসা মাঠে নিহত পাঁচ প্রবাসীর সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।
গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
বিমানবন্দরে নিহতদের স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও ৩ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।
নিহতরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।



