দেশের পেট্রোলের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত জোগান দেয় সিলেট গ্যাস ফিল্ড
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : 11 October 2026, 1:06 PM
সিলেট অঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট পরিশোধন করে দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির দুটি প্ল্যান্টে প্রতিদিন পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। উৎপাদন বাড়াতে নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার পাশাপাশি গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে একটি তেলকূপসহ ১৫টি কূপ খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের হবিগঞ্জের রশিদপুর কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টে প্রতিদিন জ্বালানি নিতে আসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির ট্যাংকলরি। এসব লরিতে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল তোলা হয়। পরে সেগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট গ্যাস ফিল্ডসে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ব্যারেল পেট্রোল, ৬০০ ব্যারেল অকটেন, ১০০ ব্যারেল কেরোসিন ও ১৫০ ব্যারেল ডিজেল উৎপাদিত হয়। এসব জ্বালানি বিপিসির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রায় পাঁচ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) উৎপাদিত হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যায়। এই কনডেনসেট পরিশোধন করে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের দুটি ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টের দৈনিক পরিশোধনক্ষমতা সাত হাজার ব্যারেল। তবে প্ল্যান্ট দুটির জন্য প্রতিদিন বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ৩৫০ ব্যারেল কনডেনসেট।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের দৈনিক পেট্রোলের চাহিদার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ উৎপাদন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস। এ ছাড়া দেশের অকটেনের চাহিদার ৭ থেকে ৮ শতাংশ, কেরোসিনের ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের প্রায় ১ শতাংশ জোগান দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় এর উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা
দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ ও ২০৩৫ সালকে লক্ষ্য ধরে দুই ধাপে ৩০০টি গ্যাসকূপ খনন ও পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড একটি তেলকূপসহ ১৫টি কূপ খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি আরও ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করা সম্ভব হবে। গ্যাস উৎপাদন বাড়লে উপজাত হিসেবে কনডেনসেট পাওয়ার পরিমাণও বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টের উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে নতুন একটি ইউনিট স্থাপন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। তবে বর্তমান জায়গায় নতুন ইউনিট স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য পাশের কিছু জমি নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধান বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে সিলেট অঞ্চলে অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সম্ভাবনাময় এলাকায় গভীর কূপ খননের পাশাপাশি পুরোনো কূপগুলোতে তেল পাওয়ার সম্ভাবনাও যাচাই করা প্রয়োজন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম ফরহাদ হাওলাদার বলেন, গভীর কূপ খননের পাশাপাশি যেসব বিদ্যমান কূপে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো অনুসন্ধান করতে হবে। এভাবে অনুসন্ধান চালানো গেলে বর্তমান সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি আশা করেন।
বিপিসির কাছে বিক্রয়মূল্য ও খুচরা দামের ব্যবধান
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের কাছ থেকে বিপিসি প্রতি লিটার অকটেন ৯২ টাকা ২৬ পয়সা, পেট্রোল ৮৫ টাকা ২৬ পয়সা, ডিজেল ৮০ টাকা ৪৬ পয়সা এবং কেরোসিন ৮১ টাকা ৪৭ পয়সা দরে কেনে। অন্যদিকে বাজারে এসব জ্বালানির খুচরা দাম যথাক্রমে ১৬৫, ১৬০, ১৩৫ ও ১৫৫ টাকা।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৫ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত দামেই এখনো জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তবে উৎপাদন ব্যয়, বিপিসির কাছে বিক্রয়মূল্য এবং খুচরা বাজারদরের মধ্যে ব্যবধানের কারণ বুঝতে সংশ্লিষ্ট মূল্য নির্ধারণব্যবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।
এম এইচ আ



