স্কুলছাত্রী তাজমিনকে হত্যার আগে ধর্ষণও করেন সিএনজিচালক সুমন: পুলিশ
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : 10 October 2026, 1:40 PM
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অটোরিকশাচালক সুমনইতাকে দিকভ্রান্ত করে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন সুমন নামের ওই অটোরিকশাচালককে কুমিল্লা রেসকোর্স নামিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়া করে। এ সময় অটোরিকশাচালকের মনে দুষ্ট চিন্তা ভর করে। পদুয়ার বাজার থেকে শহরের দিকে না নিয়ে অটোরিকশাচালক তাজমিনকে নিয়ে বিজরার দিকে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে এদিক-সেদিক ঘুরিয়ে তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার নির্জন রাস্তায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভিকটিম তাজমিন ও অটোরিকশাচালক সুমনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। ভিকটিম দৌড়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করে, তবে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে তাকে কাবু করে ফেলেন সুমন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ভিকটিমকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেচিয়ে তাজমিনকে হত্যা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গিয়ে গোসল করেন। যাওয়ার সময় ভিকটিমের ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে যান। আইফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান। পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া অটোরিকশাটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে সুমনকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। জবানবন্দি দেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তাকে আদালতে তুলব। তোলার পর বোঝা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ অন্যান্যরা।
প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এম এইচ আ




