হাওরে অর্ধেকের বেশি ধান ক্ষতিগ্রস্ত, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ মে ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় ধান শুকাতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা। একদিকে ফসলহানি, অন্যদিকে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির কঠোর মানদণ্ড—সব মিলিয়ে নষ্ট ধান নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁদের।
এ অবস্থায় ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর এক সপ্তাহ পার হলেও জেলার ১২ উপজেলায় সরকারিভাবে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৩৮ মেট্রিক টন ধান। এতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। গত ৩ মে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
রোদ না থাকায় ধান শুকাতে পারেননি কৃষকেরা
ঝাউয়ার হাওর এলাকার কৃষক আবেদ আলী জানান, প্রতি বছর পরিবারের খাদ্য সংরক্ষণের পর ১০০ থেকে ১২০ মণ ধান বিক্রি করতেন, যার বেশিরভাগই যেত সরকারি গুদামে। কিন্তু এবার অতিবৃষ্টিতে তাঁর ১৭ বিঘা জমির মধ্যে ১০ বিঘার ধান পানিতে নষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, “গত বছরের চেয়ে এ বছর ১২০-১৩০ মণ ধান কম পাব। পরিবারের খাবারেরও জোগাড় হয়নি। ধারদেনা করে ধান কাটছি। ধান নষ্ট হওয়ায় গুদামেও নেয় না, পাইকাররাও কম দাম বলে।”
জামখলার হাওরের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, “সব জমিন পানির নিচে গেছে। যা কাটছি, তা দিয়াও সারা বছর চলব না। রোদের অভাবে ধান নষ্ট হইছে।”
পাখিমারা হাওরের কৃষক জিল্লুর রহমানের প্রশ্ন, “সরকার যদি এই ধান না নেয়, আমরা কার কাছে বিক্রি করব?”
কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য কৃষক
কৃষকদের অভিযোগ, অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও মলিন ধান সরকারি গুদামে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় পাইকার ও ফড়িয়াদের কাছে প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে, যা সরকারি মূল্যের প্রায় অর্ধেক।
লক্ষ্যমাত্রা পূরণে শঙ্কা
কৃষকদের পক্ষে সরব সংগঠন হাওর বাঁচাও আন্দোলন বলছে, চলতি মৌসুমে জেলার অর্ধেকের বেশি ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একে কুদরত পাশা বলেন, “পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে কৃষকেরা যে ধান কেটেছেন, তাও শুকাতে পারেননি। সরকার চাইলে এসব ধান বিকল্প ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করতে পারে।”
খাদ্য বিভাগের আশাবাদ
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুশফিকুর রহমান বলেন, কয়েক দিন রোদ না থাকায় কৃষকেরা ধান শুকাতে পারেননি। তবে এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অনেকেই ধান শুকিয়ে গুদামে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “সংগ্রহের গতি বাড়বে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”
এম এইচ আ




