সিলেটে যৌতুক বিহীন ৬৩ এতিম কন্যার একসঙ্গে গণবিবাহ
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
সিলেটে একসঙ্গে ৬৩ এতিম কন্যার গণবিবাহ হয়েছে। রংপুর ও সিলেট অঞ্চলের এই কন্যাদের যৌতুক ছাড়া ও বিনা খরচে বিয়ে সম্পন্ন হয় যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের সংগঠন “সিডস অব সাদাকাহ” “Seeds of Sadakah (SOS)” এর উদ্যোগে। মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে এ আয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিলেট নগরীর বালুচর এলাকার একটি অভিজাত কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ গণবিবাহ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমী সামাজিক মিলনমেলায়।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে বর-কনে, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কারো চোখে আনন্দের অশ্রু, কারও মুখে নীরব কৃতজ্ঞতা। সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে মানবিকতার এক অনন্য উৎসব। আয়োজনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক জীবনের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. রেদওয়ানুর রহমানের সঞ্চালনায় বিবাহ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী এবং রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান বেলাল ও সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। সিডস অব সাদাকাহ’র পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আবুল খায়ের ও জয়নুল আবেদীন রুহেল।
বক্তারা বলেন, যৌতুকবিহীন বিয়ে যে বাস্তবেও সম্ভব। এই আয়োজন তারই জীবন্ত উদাহরণ। ইসলামে বিয়ে সহজ করার যে নির্দেশনা রয়েছে, এ উদ্যোগ সেই শিক্ষারই প্রতিফলন। তারা নবদম্পতিদের জন্য সুখী, স্থিতিশীল ও আদর্শ পরিবার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশবরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ শাহ ওয়ালীউল্লাহ বিয়ের খুতবা পাঠ করেন এবং একে একে ৬৩টি দম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। পরে নবদম্পতিদের সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অতিথিদের জন্য মধ্যাহ্নভোজেরও ব্যবস্থা করা হয়।
নবদম্পতিদের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী। পোশাকের পাশাপাশি খাট, বালিশ, তোশক ও তৈজসপত্রসহ সংসার শুরু করার প্রয়োজনীয় উপকরণ। আয়োজকদের মতে, এই সহায়তা তাদের নতুন জীবনের শুরুটিকে কিছুটা হলেও সহজ ও নিরাপদ করবে।
সব মিলিয়ে সেদিন সিলেটের বালুচরের সেই কনভেনশন সেন্টার হয়ে উঠেছিল এক নীরব মানবিক বিপ্লবের সাক্ষী। যেখানে ৬৩টি নতুন জীবনের গল্প শুরু হলো আশা, মর্যাদা আর ভালোবাসার আলোয়।




