সিলেটে ঘন ঘন লোডশেডিং : ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
সিলেটে আধাঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে অফিস-আদালতে নিত্যদিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা জানান, জেলায় চলতি মাসের শুরু থেকে লোডশেডিং হচ্ছিল। তবে, বুধবার দিবাগত রাত থেকে সেটা প্রচণ্ড আকার ধারণ করে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিনভর লোডশেডিং অব্যাহত ছিল।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, সিলেটে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গড়ে ৩৫ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। যে কারণে শিডিউল করে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৪৭৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পিডিবির ১৭০ মেগাওয়াট ও পল্লী বিদ্যুতের ৩০৭ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে পল্লী বিদ্যুতকে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬৭ মেগাওয়াট ও পিডিবিকে ১৩০ মেগাওয়াট। দুই প্রতিষ্ঠানে গড়ে ৩৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ঘনঘন লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
তাদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনার কারণে ব্যবসা আগেই সীমিত হয়ে গেছে। এরপর দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সিলেট মজুমদারি এলাকার ব্যবসায়ী শাকিল আহমদ বলেন, “প্রতি আধাঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। দিনদিন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফ্রিজে থাকা পণ্যগুলো নষ্ট হচ্ছে।”
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, গরম বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়েনি। ফলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যে কারণে লোডশেডিং হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিদিনের চাহিদা রয়েছে ১৭০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে আমাদের বিদ্যুৎ দিতে হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন না বাড়লে এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।”
সিলেটের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, “পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের ৩০৭ মেগাওয়াট চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬৭ মেগাওয়াট। গড়ে ৪৯ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। খুব দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে বলে মনে হচ্ছে না।”





