সিলেটে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ৭০০ পুলিশ, নজরদারিতে ১০৮ ক্যামেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : 16 October 2026, 12:05 AM
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সিলেট মহানগরে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিচ্ছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। এ জন্য ৭০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে প্রায় চার হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাব্যবস্থার চারটি স্তরের মধ্যে রয়েছে সাদাপোশাকে পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) তৎপরতা। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মহানগরে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন দুই শতাধিক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. আফজাল হোসেন বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, ১০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। যেসব ক্যামেরা নষ্ট রয়েছে, সেগুলো পূজার আগেই সচল করা হবে। পূজামণ্ডপের আয়োজকেরাও নিজস্ব উদ্যোগে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পূজা কমিটির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলায় এবার ৪৭৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৪৮টি সর্বজনীন ও ২৬টি পারিবারিক পূজামণ্ডপ। অন্যদিকে, সিলেট মহানগরে ১৬৫টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সিসিকের প্রস্তুতি
পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। পূজার দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজার পাঁচ দিন নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে পূজার প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট/আবির



