খোয়াই নদী থেকে বিজিবি ও বিএসএফের সহায়তায় ভারতীয় গাভী উদ্ধার
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ মে ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
সীমান্ত মানেই শুধু কাঁটাতার আর কড়াকড়ি নয়, সীমান্তে মানবিকতা, পারস্পরিক আস্থা আর দায়িত্ববোধ পালন করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং পুলিশ প্রশাসন। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী খোয়াই নদীতে ভেসে আসা একটি মূল্যবান ভারতীয় গাভী দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের দ্রুত ও আন্তরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদে উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই থানাধীন মরানদী এলাকা থেকে একটি গবাদি পশু চুরি করে পাচারকারী চক্র। চিরাচরিত স্থলপথের বদলে তারা এবার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে প্রবাহিত হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর জলপথ ব্যবহার করে গরুটি পাচারের চেষ্টা করে।
বুধবার( ২৭ মে) সকালে স্থানীয়রা খোয়াই নদীতে একটি গবাদি পশু ভাসতে দেখে বিষয়টি খোয়াই থানাকে অবহিত করেন। খবর পেয়েই খোয়াই থানার অফিসার ইনচার্জ কৃষ্ণ ধন সরকার দ্রুত বিষয়টি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)কে জানান।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিএসএফ কমান্ডেন্ট সূর্যভান সিংহ তাৎক্ষণিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলরাদেশ (বিজিবি)এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বিষয়টি জেনে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন ওই সীমান্তে বিজিবির সদস্যদের।
পরে ভারতের খোয়াই থানার পুলিশ, বিএসএফ ও বাংলাদের বিজিবির এই সমন্বিত ও ত্বরিত উদ্যোগে খোয়াই নদীতে ভাসমান অবস্থাতেই ওই গবাদি পশুটিকে উদ্ধার করেন নদী থেকে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গরুটি আজ প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেয় খোয়াই পুলিশ প্রশাসন।
হারানো সাধের গাভী ফিরে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন জয়ন্তি নামে এর গরুর মালিক।
সাধের গবাদি পশুটি ফিরে পেয়ে ওই নারী আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন। চোখের কোণে জল, কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান দুই দেশের পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীদের। তিনি বলেন “আমি ভেবেছিলাম আর কোনোদিন আমার এ গরুটাকে ফিরে পাব না। কিন্তু ফিরে পাওয়ায় আজ আমার সংসারে হাসি ফিরেছে।
আগেও খোয়াই নদীপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে পাচার করা একটি দামী পালসার মোটরবাইক একইভাবে খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণ ধন সরকার, বিএসএফ ও বিজিবির যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধার করে ভারতে ফেরত দেওয়া হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই কায়দায় চোরাই গবাদি পশু উদ্ধার হওয়ায় সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীগুলোর দক্ষতা ও আন্তরিকতা নতুন করে প্রমাণিত হলো। দায়িত্বশীলদের কাজটি করতে দ্রুত সাড়া, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি শুধু অপরাধ দমনেই নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মজবুত কূটনৈতিক সম্পর্কেরও এক উজ্জ্বল বার্তা বহন করে বলে মনে করছেন সীমান্ত এলাকার মানুষ।




