এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : 14 July 2026, 3:43 PM
সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী। তিনি বলেন, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি এবং ভুক্তভোগীও তাঁদের শনাক্ত করেননি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
রায় ঘোষণার আগে সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাঁদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেটকারে করে শাহপরান (রহ.) মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক তরুণী। ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে তাঁদের গাড়ি থামলে কয়েকজন যুবক তাঁদের জিম্মি করে কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়।
সেখানে স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ ও র্যাব অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের সময় কয়েকজন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। পরে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী, তাঁর স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং এমসি কলেজের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
এম এইচ আ



