এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলার রায়: ‘আমরা সন্তুষ্ট’, বললেন রাষ্ট্রপক্ষ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : 14 July 2026, 3:46 PM
সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে খালাস পাওয়া আসামিদের বিষয়ে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রায় ঘোষণার পর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “মামলায় আটজন আসামি ছিলেন। বিচারক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।”
খালাস পাওয়া আসামিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকায় আদালত খালাস দিয়েছেন। তবে আমরা রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পর্যালোচনা করব। প্রয়োজন মনে হলে খালাসের অংশ নিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।”
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি বালাগঞ্জ উপজেলার সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া চার আসামি—রবিউল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান (মাসুম), আইনুদ্দিন (আইনুল) ও মিজবাউল ইসলাম (রাজন)—বেকসুর খালাস পান।
রায় ঘোষণার আগে সকাল ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে দুপুরে বিচারক রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী, তাঁর স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় ছয়জনের সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
এম এইচ আ



