হবিগঞ্জে কৃষি ও মৎস্যখাতে ৭০ কোটি টাকার ক্ষতি
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : 15 July 2026, 3:38 PM
টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় আউশ ধানের ক্ষেত, শাকসবজি, ফলের বাগান এবং সহস্রাধিক মাছের ঘের ও পুকুর।
কৃষি ও মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে এই দুই খাতে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৭০ কোটি টাকারও বেশি। তবে পুরো এলাকার পানি নেমে গেলে বাড়বে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষীরা আবারো ঘুরে দাড়াতে দ্রুত সরকারি সহায়তা দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায় জেলায় আকষ্মিক বন্যায় বাড়ির ঘরসহ নানা ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সবছেয়ে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্যখাতে। বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় বিস্তীর্ণ জমি ও মৎস্য ঘের তলিয়ে যায়। পানির নিচে চলে যায় আউশ ধানের ক্ষেত, শাকসবজির আবাদ মাছের ঘের ও বিভিন্ন ফলের বাগান।
হবিগঞ্জ কৃষি বিভাগের দেয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৬৯৭ হেক্টর আউশ ধান, ১৩১ হেক্টর শাকসবজি এবং ২০ হেক্টর ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষি খাতেই ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকের মৌসুমজুড়ে করা পরিশ্রমের ফসল এক নিমিষেই নষ্ট হয়ে গেছে।
শুধু কৃষিই নয়, ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে মৎস্য খাতও। বন্যার পানিতে সহস্রাধিক মাছের খামার, পুকুর ও ঘের তলিয়ে গেছে। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে চাষ করা মাছ। মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, মাছ ভেসে যাওয়ায় অন্তত ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়েছেন শত শত মৎস্যচাষী। যদিও মৎস্য চাষীরা সরকারের দ্রুত সহযোগীতা কামনা করেছেন।
হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল আলম বলেন, জেলার ৪টি উপজেলায় ১ হাজার ৪শত ৫৩টি মাছের পুকুর ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে ৬শ ১৩ মেট্রিকটন মাছ ভেসে গেছে। এছাড়াও বন্যার পানিতে প্রায় সাড়ে ৪শত কোটি পোনা ভেসে গেছে। তিনি বলেন- প্রাথমিক ভাবে ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমান আরো বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। বরাদ্দ সাপেক্ষ সহায়তা প্রদান করা হবে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম বলেন, আউশ ধান, শাকসবজি এবং ফলের বাগানসহ হাঁস-মুরগি, পোল্ট্রি খামারের ক্ষতি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে এখনও চলছে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ। তবে এরই মধ্যে যতটুকু জানা গেছে কৃষিখাতে অন্তত ২০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
এম এইচ আ



