চামড়া শিল্পকে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে নিতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ মে ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
দেশের চামড়া শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে এ খাতকে একটি মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউজ–এ সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাভারে অবস্থিত সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি)–এর কার্যকারিতা বাড়াতে বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ইতালির একটি কোম্পানি সমীক্ষা চালাচ্ছে। আগামী ঈদের দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে সিইটিপির দৈনিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৪ থেকে ১৭ হাজার কিউবিক মিটার। এটি প্রকল্পের নির্ধারিত সক্ষমতা অনুযায়ী ২৫ হাজার কিউবিক মিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ক্রোমিয়াম রিকভারির জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের সময় ক্ষতির মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনাময় ট্যানারিগুলোকে পুনরায় অর্থায়নের মাধ্যমে সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে সরকার কাজ করছে।
চামড়া খাতের উন্নয়নে লজিস্টিক সমস্যাগুলো দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোরবানির ঈদের সময় সাভারের সিইটিপির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লবণ মাখিয়ে চামড়া সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যথাযথভাবে লবণ মাখানো হলে চামড়া ১০ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে সারা বছর কারখানাগুলোতে কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
সভায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের বড় সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে সারা বছর চামড়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দেশে এখনো এত বেশি কারখানা গড়ে ওঠেনি, যেখানে স্বল্প সময়ে সব কোরবানির চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে ব্যাগ বা জুতা তৈরি করা সম্ভব। এ কারণে সব চামড়া একসঙ্গে সাভারের হেমায়েতপুরে না পাঠিয়ে অন্তত ১০ দিন স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
চামড়া সংরক্ষণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চামড়া থেকে রক্ত ও চর্বি অপসারণ করে গরুর চামড়ায় পরিমাণমতো লবণ মাখাতে হবে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় চামড়া শিল্পে বিপ্লব ঘটানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মো. সারওয়ার আলম, রেজাউল হাসান কয়েস লোদি ও ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ চামড়া ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
এম এইচ আ




