বিদ্রোহ কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী আজ
মইনুল হাসান আবির:
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ মে ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চিরন্তন উচ্চারণে বাংলা সাহিত্যকে যিনি নতুন ভাষা দিয়েছিলেন, সেই কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী আজ। দিনটি ঘিরে সিলেট, ঢাকা, ত্রিশাল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এবারের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সরকারিভাবেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রিশাল–এ। কবির স্মৃতিবিজড়িত এ জনপদে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী চলছে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নজরুলসংগীত পরিবেশনা।
সিলেটেও নানা আয়োজনে স্মরণ করা হচ্ছে জাতীয় কবিকে। ‘সিংহবাড়িতে কবি নজরুল’ শিরোনামে নগরের বালুচরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান। এর আয়োজন করেছে উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ, সিলেট।
অনুষ্ঠানে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতা ও বিদেশি অতিথিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দুই পর্বে সাজানো আয়োজনে থাকবে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও আলোচনা। দ্বিতীয় পর্বে ইংল্যান্ডপ্রবাসী নজরুলসংগীত শিল্পী ড. শর্মিলা সেন উর্মি ‘পরদেশি বঁধুয়া’ শিরোনামে এক ঘণ্টার সংগীত পরিবেশন করবেন।
১৯২৬ ও ১৯২৮ সালে সিলেট সফরে এসেছিলেন কবি নজরুল। অসুস্থ অবস্থায় সিংহবাড়ির সদস্যদের আন্তরিক সেবা ও ভালোবাসা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সেই স্মৃতির সাক্ষ্য হয়ে আছে সিংহবাড়ির কন্যা লীলাবতী মজুমদারকে লেখা কবির হৃদয়ছোঁয়া কবিতা।
রাজধানী ঢাকাতেও চলছে নানা আয়োজন। বাংলা একাডেমি আয়োজন করেছে সেমিনার, নজরুল পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অন্যদিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি–তে “দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি” শিরোনামে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নজরুল ইনস্টিটিউট–এর উদ্যোগেও রয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে কাজী নজরুল ইসলাম–কে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া নজরুল বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার অন্যতম পথিকৃৎ। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতায় তিনি রেখে গেছেন অসামান্য অবদান।
১৯২২ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত কবিতা বিদ্রোহী বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের সূচনা করে। একই সময়ে প্রকাশিত হয় তার কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা। দ্রোহের পাশাপাশি প্রেম, মানবতা ও সাম্যের বাণীতেও সমৃদ্ধ ছিল তার সাহিত্যকর্ম।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয় কবিকে। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছানুসারে তাকে সমাহিত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ–এর পাশে।
এম এইচ আ




