রবীন্দ্রনাথ এখানে চারবার গেছেন, উদযাপন করেছেন জন্মদিন
সিডকে
প্রকাশিত হয়েছে : 27 January 2022, 12:05 PMবিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিছুদিন থেকেছেন কালিম্পঙের গৌরীপুর হাউসে। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়ি এখন দৃশ্যত অবহেলার শিকার।
গৌরীপুর হাউস বাংলোটি এক সময় মানুষে গমগম করত। সেই গৌরবের ইতিহাসের পাতায় জমেছে এখন বিস্মৃতির পুরু ধুলো।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তরপ্রান্তের কালিম্পং শহর থেকে দক্ষিণ দিকে রিং কিং পিং রোড ধরে দুই-তিন কিলোমিটার পশ্চিমে গেলেই গৌরীপুর হাউস।
হ্যাঁ, কেউ কেউ হয়তো ঠিকই অনুমান করছেন (বিশেষ করে, ঘটনাস্থল পশ্চিমবঙ্গ বলে) এই গৌরীপুরের সঙ্গে পদ্মার এপারেরই গৌরীপুরের সংযোগ আছে, জনপ্রিয় উপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ যে এলাকাটিকে ‘জাতীয় পরিচিতি’ দিয়ে গেছেন।<
এক সময় এই গৌরীপুর হাউসের মালিক ছিলেন সেকালের পূর্ব বাংলা, আজকের বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরী।
আর গৌরীপুর ময়মনসিংহেরই একটি উপজেলার নাম। ১৯৩৮-১৯৪০ সালের মধ্যে গৌরীপুরের এই বাড়িতে পা রেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। মোট চার বার ওই বাড়িতে থেকেছেন তিনি।
ঝাঁ চকচকে কালিম্পং পলিটেকনিক কলেজের পাশে পুরনো এই বাংলো দেখলে অনেকের কাছেই বেমানান ঠেকে। অথচ বাড়িটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। যা এখন ঢাকা পড়ে গেছে বিস্মৃতির ধুলোয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ বার ১৯৪০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গিয়েছিলেন বাড়িটিতে। তাঁর ৮০তম জন্মদিনও এখানেই পালন করা হয়েছিল। জন্মদিনের সকালে তিব্বতি সাধুরা নাকি ওই বাড়িতে তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন!
ওই দিন নিজের কবিতা কালিম্পঙের গৌরীপুর হাউস থেকেই টেলিফোনের মাধ্যমে আবৃত্তি করেছিলেন বিশ্বকবি। ওই পাঠ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছিল আকাশবাণীতে। সেই ইতিহাস ধরে রাখা আছে গৌরীপুর হাউসের গায়ে লাগানো একটি ফলকে।
২০১৮ সালে সেই গৌরীপুর হাউস অধিগ্রহণ করে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন। তবে রবীন্দ্র-স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ আর এগোয়নি। রবি ঠাকুরের অনুরাগীরা চাইছেন, সংগ্রহশালা করা হোক ভগ্নদশার ওই বাড়িটিকে।
সূত্র: আনন্দবাজার।
সাহিত্য / এ

\


