ইতালিতে প্রতিবছর বৈধভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : 08 September 2026, 11:46 AM
ইতালিতে প্রতিবছর বৈধভাবে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হিসাব ধরলে এ সংখ্যা প্রায় ১২ হাজারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বাংলাদেশি কর্মীদের ইতালীয় ভাষা প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতালিতে বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। দেশটিতে থাকা প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশির মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের বাসিন্দা।
অবৈধ পথে অভিবাসন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলে যৌথ কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদেশযাত্রা কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে ইতালিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে যাতায়াত বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বৈঠকে ইতালিতে বৈধভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালিতে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হিসাব ধরলে এ সংখ্যা প্রায় ১২ হাজারে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং ইতালীয় ভাষায় প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইতালি। এ জন্য ইতালি থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং নির্দিষ্ট একটি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানান রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো।
এ ছাড়া বাংলাদেশি স্থপতি ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ইতালিতে পাঠানোর প্রস্তাবও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
এসব ক্ষেত্রে ইতালির মিলান মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে খুলনা সিটি করপোরেশনকে একটি পাইলট প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
এদিকে বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ শ্রমিক নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য, অভিবাসন এবং বিভিন্ন শহরের মধ্যে টুইনশিপ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দুই দেশের সহযোগিতার পরিধি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।



