টানা বৃষ্টিতে হাওরে আবারও বাড়ছে পানি, বাকি ধান নিয়ে উদ্বেগ
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ মে ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
টানা বৃষ্টিতে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরের পানি। এতে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। অবশিষ্ট বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় কৃষকদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাউবো জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার জেলায় ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে গত তিন দিনে জেলায় ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সুরমা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ৭২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বর্ষার আগে সুরমা নদীর বিপদসীমা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ মিটার।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জ ও উজানে চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নদী ও হাওরের পানি আরও বাড়তে পারে। কৃষকের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা আছে। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করছি না। হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা জানান, বৈশাখের শুরু থেকেই বৃষ্টির কারণে ধান ঘরে তুলতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এক-দুই দিন রোদ মিললেও আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক এলাকায় কাটা ধান এখনও ক্ষেতেই পড়ে রয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, দুর্যোগ যেন এ বছর কৃষকদের পিছুই ছাড়ছে না। এক দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে পরের দুই দিনই বৃষ্টি হচ্ছে। অন্তত এক সপ্তাহ টানা রোদ থাকলে কৃষকেরা অবশিষ্ট ধান ঘরে তুলতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি ছোট-বড় হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ টন ধান। এ পর্যন্ত জেলায় গড়ে ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। মোট কাটা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে কাটা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩১ হেক্টর জমির ধান। সেই হিসাবে এখনও প্রায় ১৩ শতাংশ ধান কাটার বাকি রয়েছে। কৃষি বিভাগের ১০ দিন আগের হিসাব অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জে ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা করা হয়। তবে এরপর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আর হালনাগাদ করা হয়নি।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, এখনও চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করা হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এম এইচ আ





