বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ মে ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক সার সরবরাহ চেইন বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সারের চালান স্থবির হয়ে গেছে বলে জানা যাচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যের দামে, যা নতুন করে খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরিও জানান, পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তার মতে, কৃষি মৌসুমের সময়সূচির সঙ্গে এই সংকটের মিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এশিয়ার কিছু দেশে ইতোমধ্যে বপনের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো বড় কৃষি রপ্তানিকারক দেশগুলো গম ও ভুট্টার পরিবর্তে সয়াবিন চাষের দিকে ঝুঁকতে পারে, কারণ এতে নাইট্রোজেন ব্যবহারের ভারসাম্য ভালোভাবে বজায় রাখা যায়।
এফএওর এই অর্থনীতিবিদ সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কিছু কৃষক জৈব জ্বালানি উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকতে পারেন, যা খাদ্য উৎপাদনকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
তার ভাষায়, গম ও সয়াবিনের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে এবং বছরের শেষ ভাগে পরিস্থিতি আরও পরিবর্তন হতে পারে। আগামী বছরে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, উচ্চ খাদ্য ও পণ্যমূল্যের ঝুঁকি বাড়ছে, কারণ খাদ্য উৎপাদন শুধু কাঁচামালের ওপর নয়, জ্বালানি খাতের দামের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। সময় যত গড়াচ্ছে, সংকট ততই গভীর হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।




