ঢাকা-সিলেট সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : 02 May 2026, 8:42 PM
সিলেটের সঙ্গে ঢাকার সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত উন্নয়নকাজ শুরু করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সুরমা নদীর দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় সড়কপথে সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। সে সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠন করতে পারলে এই সড়কের উন্নয়নে কাজ শুরু করবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
রেলপথের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শুধু সড়ক বড় করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সড়কে যানবাহন বাড়লে যানজটও বাড়বে। তাই কম খরচে ও দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করতে রেলব্যবস্থার সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এ কারণে ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। অতিরিক্ত সড়ক নির্মাণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভারসাম্য রাখতে হবে।
সিলেটের জলাবদ্ধতা ও পানিসংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাল খনন, জলাধার তৈরি এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সিলেটের পরিত্যক্ত ২০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও বলেন।
তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য সিলেটের বন্ধ আইটি পার্ক সচল করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ভোকেশনাল প্রশিক্ষণকেন্দ্র আধুনিকায়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে সকালে সিলেট নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর দুই তীরে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।




