গরুর মাংসের কেজি ৯০০ টাকা, ব্রয়লার ২৩০ টাকা
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ মার্চ ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
পবিত্র ঈদুল ফিতরে সব বাসাতেই কম-বেশি ভালো রান্নার আয়োজন থাকে। গরু হোক, খাসি হোক… মাংস থাকা চাই। দেশি মুরগি তো দামে ধরা ছোঁয়ার বাইরে, অন্তত ব্রয়লার বা সোনালি মুরগি না হলেই নয়। ঈদে মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানোর সুযোগটা প্রতিবারের মতো এবারও কাজে লাগিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর বাজারগুলোতে সবধরনেরমাংস বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। সেই তুলনায় সহনশীল রয়েছে মাছ আর সবজির দামে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে মসলার দাম বেড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যার পর রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ, বাড্ডা ও মহাখালি বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বাড়ায় রাজধানীর বাজারে এখন গরুর মাংস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে গরুর মাংস বিক্রি হতো ৭৫০ টাকা দরে, রোজা শুরুর পর দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮০০ টাকা। ঈদ এগিয়ে আসায় একলাফে তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৯০০টাকা পর্যন্ত। খাসির মাংসের দামও বাড়ানো হয়েছে কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। খাসি নাকি ভেড়া, সেটা নিশ্চিত হতে না পারলেও ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়।
সুযোগ হাতছাড়া করেননি মুরগি ব্যবসায়ীরাও। গত সপ্তাহে যেখানে ব্রয়লার কেজি বিক্রি হচ্ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, সেখানে এখন সেই ব্রয়লারই বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। সোনালি মুরগি কেজিতে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এভাবে কারণ ছাড়াই অনৈতিকভাবে মাংসের দাম বাড়ানোয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে প্রায়ই তর্কবিতর্ক লেগে যাচ্ছে। মধ্যবাড্ডা বাজারে বিসমিল্লাহ গোশত বিতানের সামনে একাধিক ক্রেতাকে উচ্চ কণ্ঠে অনৈতিকভাবে এভাবে মাংসের দাম বাড়ানোয় প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। মাংস বিক্রেতা জলিল মিয়া নিজের সেই পুরনো গীতি ফের গাইলেন, আমাদের বাড়তি দামে গরু-খাসি কিনে আনতে হয়। আমরা তো আর লসে বিক্রি করবো না, তবে নিজেদের মুনাফা থেকে একটি অংশ ছাড় দিয়েই মাংস বিক্রি করে থাকি।
আরেক বেপারি নজরুল মৃধা বললেন,উত্তরবঙ্গ থেকে ট্রাকে করে রাজধানীতে গরু নিয়ে আসা হয়। পথে নানা খরচ আছে, যা ওপেস সিক্রেটে । তবে বর্তমানে জ্বালানি তেল পাওয়া নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ঠিকমতো গাড়িও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গরু আনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে মাংসের দামে।
মুরগি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মিলন বললেন, মুলত ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়।এতে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যায়। ব্যবসায়িক কারণে পরিবহন ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে মুরগির দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। নয়তো আমাদের লসের মধ্যে পড়তে হবে।
এদিকে ঈদে মাছের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় বাড়েনি দাম। পুরনো দামেই বিক্রি হচ্ছে- তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০০ টাকা, পাঙাস ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, চাষের কই ২৫০ থেকে ৩০০, পাবদা৪৫০ থেকে ৬০০, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গলদা চিংড়ি ছোট ১ হাজার টাকা এবং বড়টা ১ হাজার ২০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা ও পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
ঈদ ঘিরে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে মসলার বাজারে। কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলাচের। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কম ছিল।
এছাড়া দারুচিনি ৫৮০-৬০০ টাকা, জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা, জায়ফল ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা কেজিতে। এছাড়া জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা, তেজপাতাও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
একইভাবে শুকনো ফলের বাজারেও দাম বেড়েছে। কিশমিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, আলুবোখারা ১ হাজার ৪০০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, কাঠবাদাম ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং পেস্তা বাদাম ৪ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।




