সিলেটে মা ও মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে খুন হন গৃহশিক্ষক
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
সিলেটের জালালাবাদ থানায় ক্লুলেস হত্যা মামলায় নারীসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) নগরীর সোনারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে জালালাবাদ থানাপুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন জালালাবাদ থানার বড়ফৌদ এলাকার মহরম আলীর ছেলে আব্দুল মতিন (৪৫) ও নগরীর সোনারপাড়া এলাকার নবারুন ২০১নং বাসার খালেদা বেগম (৩২)। তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানার দলইরগাঁওয়ের ইসমাইল আলীর স্ত্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা এবং মা ও মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে খুন হন সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার বড়শালা মংলিপাড়ের আমীর আলীর ছেলে শোয়েবুর রহমান ওরফে শিহাব ওরফে রাজ (৩০)। তিনি খালেদা বেগমের বাসায় থেকে বাচ্চাদের আরবি পড়াতেন।
জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে জালালাবাদ থানার হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁও এলাকায় বাদেশ্বর নদীর উত্তর পাড়ে কুড়াইল হাওড়ের ঝোপে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের (৩০) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি শোয়েবুর রহমানের হিসেবে সনাক্ত হয়।
এ ঘটনায় শোয়েবুর রহমানের বড়ভাই সয়াইবুর রহমান জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন।
থানাপুলিশের অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, শোয়েবুর রহমান ২০২৩ সাল থেকে খালেদা বেগমের বাসা থেকে তার সন্তানদের আরবি পড়াতেন। খালেদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় শোয়েবুর রহমান বাসার সার্বিক বিষয়াদি দেখাশোনা করতেন। একপর্যায়ে শোয়েবুর ও খালেদার মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
শোয়েবুর রহমান খালেদা বেগমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার স্বামীর সাথে শিবগঞ্জ উপশহর এলাকায় একটি প্লট যৌথভাবে ক্রয়ের পরিকল্পনা করে ২০ লক্ষ টাকা বায়না করান। পরবর্তীতে শোয়েবুর পর্তুগাল ও লন্ডনে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জমির বায়নার টাকা ও খালেদা বেগমের প্রায় ৭ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির অর্থসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে লন্ডনে নেওয়ার জন্য চাপ দিলে শোয়েবুর খালেদা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। একইসাথে তার মেয়ের সাথেও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
এই ঘটনার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শোয়েবুরকে বাদেশ্বর নদীর পাশে কুড়াইল হাওড়ে বেতের ঝোঁপে নিয়ে হত্যার করে মৃতদেহ বিবস্ত্র করে এবং বস্তা দিয়ে মৃতের মুখসহ অর্ধাংশ ঢেকে রেখে ঘাতকরা পালিয়ে যায়।
সিলেট সংবাদ/আবির




