সুনামগঞ্জ হাওরের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬ বিদ্যালয়ে নৌকা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : 21 July 2026, 6:16 PM
বর্ষা মৌসুমে হাওরাঞ্চলের সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে যেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। অনেকেই নৌকার অভাবে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এ বাস্তবতায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নৌকা দেওয়া হয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-মধ্যনগর-তাহিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের বরাদ্দ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নৌকাগুলো তৈরি করা হয়। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো তুলে দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বছরের প্রায় ছয় মাস বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে থাকে। এ সময় নৌকাই হয়ে ওঠে মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। শিক্ষা কার্যক্রমও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন নদী ও হাওর পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।
মধ্যনগর উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৪৫টির শিক্ষার্থীদের বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। নিরাপদ নৌযানের অভাবে অনেক শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমে যায়।
এবার শালীয়ানী, জামালপুর, কামাউড়া, খালিশাকান্দা, গলইখালী, ইটাউরি, দুগনই, বলরামপুর, মাছুয়াকান্দা, দৌলতপুর, দোয়াদুর রহমান, আলীপুর, সাতুর, বীরসিংহপাড়া, চাপাইতি ও আটাইশা মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা দেওয়া হয়েছে।
মধ্যনগরের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। নৌকা দেওয়ায় এখন তাদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বর্ষাকালে উপজেলার প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৌকায় চলাচল করতে হয়। নতুন নৌকাগুলো শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়াতে সহায়ক হবে।
খালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদ আলম বলেন, নৌকা পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন আরও স্বাচ্ছন্দ্যে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে। এতে অভিভাবকদের উদ্বেগও কমবে।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি রমা রঞ্জন সরকার বলেন, বর্ষার সময় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণে পাঠদান ব্যাহত হতো। নতুন এই উদ্যোগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরবে।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় কোনো শিক্ষার্থী যেন শুধু নৌকার অভাবে পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যেসব বিদ্যালয়ে নৌযান ছাড়া বিকল্প নেই, সেখানেও নৌকা দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, নৌকাগুলো শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়ার হার কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এম এইচ আ



