চা-শিল্পে বাড়ছে উৎপাদন খরচ, মজুরি নিয়েও অসন্তোষ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ জুন ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
প্রায় ১৭০ বছর ধরে বাংলাদেশে চা উৎপাদিত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে চা চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে অনেক চা-বাগান উৎপাদন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিকেরা বলছেন, তাঁরা এখনো ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত।
সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানে ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে বাণিজ্যিক চা উৎপাদন শুরু হয়। এরপর দেশে একে একে গড়ে ওঠে ১৬৮টি চা-বাগান। ২০২২ সালে শ্রমিক আন্দোলনের পর চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করা হয়। পরবর্তী সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়ে। একই সঙ্গে সার, কীটনাশক ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় চা উৎপাদনের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
চাতলাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর চন্দ্র নাথ বলেন, উৎপাদন বাড়লেও চা-বাগানগুলোর আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। কারণ, উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে চা-শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমানে তাঁরা দৈনিক ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা মজুরি পান। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ছে না। প্রতি বছর মজুরি সমন্বয়ের যে কথা রয়েছে, তা মানা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতি কেজি চায়ের নিলামমূল্যের গড় ছিল ১৭১ টাকা ২৪ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০২ টাকা ৪৬ পয়সায়। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতি কেজি চা গড়ে ২৪৫ টাকা ৫০ পয়সা দামে বিক্রি হচ্ছে, যা গত এক দশকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গড় মূল্য।
তবে মালিকপক্ষের দাবি, চায়ের দাম বাড়লেও উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পানি–সংকট—সব মিলিয়ে চা-শিল্প বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
তাঁর মতে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের চা-শিল্পকে টেকসই রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এম এইচ আ



