দোয়ারাবাজারে নদীগর্ভে যাচ্ছে বাঁধ ও সড়ক, আতঙ্কে হাজারো মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুন ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নে চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ব্লকের নিচ থেকে বালি সরে যাওয়ায় প্রায় দেড় শ’ মিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ ও সংলগ্ন সড়ক নদীগর্ভে ধসে পড়ছে। এতে সীমান্তবর্তী ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্য ক্যাম্প ঘাটে শফিকের বাড়ির নিকটে প্রায় ১৫০ মিটার এবং দক্ষিণ ক্যাম্প ঘাটে সুজনের বাড়ির সামনে প্রায় ১২০ মিটার এলাকায় সড়ক ও বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছে বিএডিসির চিলাই নদী রাবারড্যাম প্রকল্প।
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে বিএডিসির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদার দায়সারা ও নিম্নমানের কাজ করায় আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্য ক্যাম্প ঘাট গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “বিএডিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারের দায়সারা ও নিম্নমানের কাজের কারণে এখন পুরো বেড়িবাঁধ-সড়কে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত টেকসই সংস্কার না হলে আমাদের ফসল ও ঘরবাড়ি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।”
একই গ্রামের কৃষক বাদল মিয়া বলেন, “বছরের পর বছর এই বাঁধের ওপর ভরসা করে চাষাবাদ করছি। এখন বাঁধ ভেঙে পড়ছে, অথচ কর্তৃপক্ষের কোনো নড়াচড়া নেই। চলতি মৌসুমে মেরামত না হলে আমন ফসল বাঁচানো যাবে না, ঘরবাড়িও পানিতে তলিয়ে যাবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুছ সামাদ অভিযোগ করে বলেন, “কাজের সময় বালু দিয়ে ভরাট করে ওপরের দিকে ব্লক বসানো হয়েছিল। ভেতরে কোনো শক্ত ভিত্তি ছিল না। তখনই বুঝেছিলাম কাজ টেকসই হয়নি। এখন সেটাই প্রমাণ হচ্ছে। দায়ীদের বিচারের পাশাপাশি স্থায়ী সংস্কার চাই।”
বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিলন খান বলেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু ফসলের ক্ষতি হবে না, গোটা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ক্ষতির পরিমাণ অপূরণীয় হবে।”
চিলাই নদী রাবারড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি হারুনুর রশীদ বলেন, “রাবারড্যাম প্রকল্পটি এ অঞ্চলের কৃষিসেচ ব্যবস্থার প্রাণ। বেড়িবাঁধ ধসে গেলে পুরো প্রকল্প হুমকির মুখে পড়বে এবং শত শত কৃষক পরিবার সেচসুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। নিম্নমানের কাজের তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দ্রুত স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী কাজী হোসেন আর রাফি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই বালি ফেলে আপৎকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, আপৎকালীন ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারই এখন সময়ের দাবি। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আসন্ন বর্ষায় পুরো বাঁধ ভেসে যেতে পারে। এতে ফসলহানি, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মতো বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে পড়বে পুরো এলাকা।
এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা অবিলম্বে বেড়িবাঁধের স্থায়ী সংস্কার, নিম্নমানের কাজের তদন্ত এবং দায়ী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এম এইচ আ



