গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট: সিলেটে বাড়ছে লোডশেডিং
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
গ্রীষ্মের তাপদাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। তবে উৎপাদন চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং পরিস্থিতি প্রকট হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে শহরাঞ্চলের তুলনায় মফস্বল এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা বেশি। গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনে একাধিকবার লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছতে পারে। এই চাহিদা পূরণে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখা প্রয়োজন হলেও জ্বালানি সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরাদ্দ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সংকট এবং কিছু ইউনিটের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে উৎপাদন আরও কমে যায়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, কয়লাভিত্তিক কয়েকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে থাকায় সাময়িকভাবে উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এর মধ্যে আদানি পাওয়ারের একটি এবং রামপালের দুটি ইউনিট ছিল। বর্তমানে এগুলো আবার উৎপাদনে ফিরেছে, ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
তবে এখনো চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্লান্ট এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লা সংকটে রয়েছে। একই সঙ্গে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও অর্থসংকটে ভুগছে। সরকারের কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া থাকায় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঘণ্টাভিত্তিক বিদ্যুৎ চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধানে এক হাজার থেকে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে।
বিপিডিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন, রক্ষণাবেক্ষণ শেষে ইউনিটগুলো উৎপাদনে ফেরায় এবং নতুন করে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে বিদ্যুৎ সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এম এইচ আ





