পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার সিলেটে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : 10 August 2026, 6:21 PM
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার কমেছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছেন। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৩৬ জন, যা গত বছরের চেয়ে ২২২ জন বেশি।
সোমবার সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।
বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছর ধরে সিলেটে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে।
গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
পাসের হার কমার কারণ সম্পর্কে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, পরিবর্তিত সিলেবাস ও শিক্ষকসংকটের কারণে এবার পাসের হার কমেছে।
এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৪২১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ১২ হাজার ৭৯৮ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৩ হাজার ৮৯১ জন ছাত্রী এবং ৩৫ হাজার ৫৩০ জন ছাত্র।
ফলাফলে দেখা গেছে, পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ।
জিপিএ-৫ বেড়েছে
পাসের হার কমলেও এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৩ হাজার ৬১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এবার পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন।
এর আগে ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭ হাজার ৫৬৫ জন, ২০২৩ সালে ৫ হাজার ৪৫২ জন এবং ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৪৭১ জন।
এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বিভাগভেদে ফল
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো করেছে। এ বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ জন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৮ জন। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০ জন।
চার জেলার ফল
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চার জেলার মধ্যে এবার পরীক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি ছিল সিলেট জেলায়। এ জেলায় ৩৫ হাজার ৩৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ১৪ হাজার ৩২১ জন এবং ছাত্রী ২১ হাজার ১০ জন। জেলার ৩৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯৪টি পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল।
মৌলভীবাজারে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৯ হাজার ৯১৩ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৬৩১ জন ও ছাত্রী ১২ হাজার ২৮২ জন। জেলার ১৯৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।
সুনামগঞ্জে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৮ হাজার ৩৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৫১৫ জন এবং ছাত্রী ১০ হাজার ৮৬৮ জন। জেলার ২৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৪৫টি পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল।
হবিগঞ্জে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৫ হাজার ৭৯৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৬৩ জন এবং ছাত্রী ৯ হাজার ৭৩১ জন। জেলার ১৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৪৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।
জাতীয় পর্যায়েও সিলেটের পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম। এবার ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ৫ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
এম এইচ আ



