কবরস্থানে ‘পীরের’ আস্তানা, মাদক সেবনের অভিযোগে ক্ষোভ
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ জুন ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের একটি শতবর্ষী পঞ্চায়েতি কবরস্থানে ‘পীর’ পরিচয়ে এক ব্যক্তির বসবাসকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আধ্যাত্মিক সাধনার আড়ালে সেখানে মাদকসেবন ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড চলছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া (৩৫) একটি হত্যা মামলার আসামি। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি গ্রামের ওই কবরস্থানের জঙ্গলঘেরা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তার দাবি, স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশ অনুসারে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন এবং জিন সাধনাসহ আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, কবরস্থানের ভেতরে শতবর্ষী একটি বটগাছের নিচে বাঁশ ও বেত দিয়ে দোতলা ছাপড়ি ঘর নির্মাণ করেছেন গয়াছ মিয়া। সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহীন আলম বলেন, “পীর সেজে সেখানে মাদকের আখড়া গড়ে তোলা হয়েছে। সন্ধ্যার পর নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড চলে।”
বাজিতপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, “এটি শত বছরের পবিত্র কবরস্থান। এখানে মদ-গাঁজার আসর বসানোর অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
শ্যামলবাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি বাবুল মিয়ার ভাষ্য, কবরস্থানের পাশ দিয়ে প্রতিদিন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। সেখানে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, গয়াছ মিয়া প্রায়ই হাতে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করেন। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা নাবিল আরাফাত বলেন, “এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।”
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানসংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে একটি দোতলা ছাপড়ি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত গয়াছ মিয়া নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “কারাগারে থাকার সময় আমার বাড়িঘর নষ্ট হয়ে গেছে। আশ্রয়হীন হয়ে এখানে আছি। মাদকসেবনের অভিযোগ সত্য নয়।”
এদিকে গত বুধবার এলাকাবাসী দোয়ারাবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা প্রশাসনের কাছেও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে কবরস্থানে গড়ে ওঠা আস্তানা উচ্ছেদ, মসজিদের সম্পত্তি রক্ষা এবং কবরস্থানের পরিবেশ সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
দোয়ারাবাজার মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এম এইচ আ



