প্রধানমন্ত্রীর সফরকে মৌলভীবাজারে উৎসবের আমেজ
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুন ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজার সফরে আসছেন।বুধবার মৌলীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এ নিয়ে ২য় বারের মতো সিলেট বিভাগে সফরে আসছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতাকর্মীরা সফর সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। এলাকার বিভিন্ন দাবি দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন সআনীয় নেতারা।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সিলেটে পৌঁছে তিনি সড়কপথে শ্রীমঙ্গলে আসবেন। দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৩টায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে দুসাই রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছে কিছু সময় বিরতি নেবেন। এরপর বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত রাজনৈতিক সভায় যোগ দেবেন।
সভা শেষে সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার শহরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। অনুষ্ঠানস্থল দুটি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। টানা বৃষ্টির কারণে কাদাময় হয়ে পড়া মাঠে বালু ফেলে সমতল করা হচ্ছে। মঞ্চ নির্মাণ, প্রবেশপথ সংস্কার, নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি স্থাপনাগুলোও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাবেল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা করছেন। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি উল্লেখযোগ্য।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে মৌলভীবাজারের মানুষের মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, রাজনগরের খেয়াঘাটে কুশিয়ারা নদীতে সেতু নির্মাণসহ আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ধারায় জেলাবাসীর উপেক্ষিত এসব দাবি পূরণ হবে বলে আশা করি।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ছাড়া অপর তিন জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবার আশা করি মৌলভীবাজার জেলায় প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেবেন।
তিনি আরও বলেন, মৌলভীবাজারের প্রচুর মানুষ প্রবাসে অবস্থান করেন। চা বাগান ও চা নিলাম কেন্দ্রের জন্য এবং শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্বল্প সময়ে যোগাযোগের জন্য কমলগঞ্জের শমশেরনগর বিমানবন্দর চালুর জন্য দাবি জানানো হবে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জেলা। প্রতি মাসে প্রচুর পর্যটক মৌলভীবাজারে আসেন। স্বল্প খরচে সহজে শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়ায় যাতায়াতের জন্য ট্রেনের বিশেষ বগির ব্যবস্থা করার দাবি রয়েছে।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর মৌলভীবাজারবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শ্রীমঙ্গল থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় আমরা গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশাগুলোর বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।
সিলেট নগরের চার পয়েন্টে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি:
বুধবার সিলেট নগর হয়ে মৌলভীবাচার আসা যাওয়া করবেন প্রধানমন্ত্রী। তাই তাকে বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিলেট মহানগর বিএনপি। সোমবার বিকেলে এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।
সভা শেষে জানানো হয়, নগরের চারটি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হবে। প্রতিটা পয়েন্টে মনিটরিং করার জন্য দুই জন সহ-সভাপতি ও দুই জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন। পয়েন্টগুলো হলো- চৌকিদেখী, আম্বরখানা, কুমার পাড়া থেকে নাইরপুল এবং উপশহর থেকে হুমায়ুন রশিদ চত্বর।
এম এইচ আ



