অপরাধ দমনে সিলেটে আসছে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি : সিসিক প্রশাসক
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জুন ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি দেশবাসীর মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আমরা আশা করি র্যাব সদস্য ইমন হত্যা মামলা, শিশু ফাহিমা হত্যা মামলাসহ সিলেটের আলোচিত অন্যান্য হত্যা মামলাগুলোর বিচারও দ্রুত সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, এছাড়া এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আমরা আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং অপরাধীরা আইনের প্রতি আরও ভীত ও শ্রদ্ধাশীল হবে।
রোববার (১৪ জুন) সিলেট মহানগর পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত ট্রাফিক সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরাগুলোর একটি অংশ বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান ক্যামেরাগুলো দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী শনাক্তকরণ ও কার্যকর নজরদারিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সিলেটের অপরাধ দমন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ বাস্তবতায় সিটি করপোরেশন একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি প্রকল্প গ্রহণ করছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অপরাধীদের গতিবিধি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তাদের অবস্থান, চলাচল ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষে পৌঁছে যাবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর তা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া আমরা সিলেটকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, জনগণ এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে আরও মানবিক ও জনবান্ধব আচরণ প্রত্যাশা করে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা সেই প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিলেটের আলোচিত কয়েকটি হত্যা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি দেশবাসীর মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আমরা আশা করি র্যাব সদস্য ইমন হত্যা মামলা, শিশু ফাহিমা হত্যা মামলাসহ সিলেটের আলোচিত অন্যান্য হত্যা মামলাগুলোর বিচারও দ্রুত সম্পন্ন হবে। এছাড়া এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আমরা আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং অপরাধীরা আইনের প্রতি আরও ভীত ও শ্রদ্ধাশীল হবে।
ট্রাফিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ১০ লাখ মানুষের একটি নগরীতে শুধু পুলিশের পক্ষে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নগর গড়তে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ্ত রায়। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও অতিরিক্ত কমিশনার এনামুল হক। এছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ফুটপাত ব্যবহার, ফুটপাত না থাকলে রাস্তার ডান প্রান্ত দিয়ে চলাচল, রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার, চলন্ত যানবাহনে ওঠা-নামা থেকে বিরত থাকা এবং ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চালানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ উপলক্ষে নগরীতে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। আগামী ২০ জুন পর্যন্ত ট্রাফিক সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি চলবে।
- নীরব চাকলাদার



