৩০০ আসনে নারী প্রার্থী মাত্র ১০৭ জন, স্বতন্ত্রের সংখ্যা ৪০
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বর্তমানে চলছে যাচাই-বাছাই। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী,৩০০ সংসদীয় আসনে মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ২ হাজার ৫৬৯ জনের। এদের মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ১০৮ জন। বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে এই সংখ্যা এখন ১০৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে এ সংখ্যাটিও চুড়ান্ত নয়। ইসির যাচাই–বাছাই শেষে চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারিত হবে।
দেশে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রায়ই সভা-সেমিনারে আলোচনা হলেও কার্যত রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়েনি। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সংস্কার ও পরিবর্তনের কথা বলা হলেও নারী প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন সামান্যই। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী ছিলেন এক হাজার ৯৬৯ জন, যার মধ্যে নারী ছিলেন ৯৬ জন। সেই হিসেবে এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা সামান্য বাড়লেও, মূলধারার রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
আসন্নে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জমা পড়া নারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট নারী প্রার্থীর এক–তৃতীয়াংশেরও বেশি, অর্থাৎ ৪০ জনই স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের অনেকেই নিজ রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন বেশ সুপরিচিত। যারা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বিএনপি তাদের জোটের শরিক দলকে ছাড় দেওয়ায় রুমিন ফারহানা দলীয় মনোনয়ন পাননি। যে কারণে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা -৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনের ঠিক আগমুহূর্তে তিনি দল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। দলটি ১৩টি আসনে মোট ১০ জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ওই আসনগুলোতে বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা নারী প্রার্থীর সংখ্যা আরও কমিয়ে দিতে পারে।
জামায়াতে ইসলামী সরাসরি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। তবে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, তারা নিয়মানুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেবেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ১০ জন এবং বাসদ ৪ জন নারী প্রার্থী দিয়েছে।
এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ৬ জন করে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) মনোনয়ন দিয়েছে ৫ জন, গণসংহতি আন্দোলন ৪ জন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩ জন এবং গণঅধিকার পরিষদ ৩ জন নারী প্রার্থী দিয়েছে।
গত আগস্টে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জুলাই সনদ’-এর যে খসড়া পাঠিয়েছিল, সেখানে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছিল। এতে বলা হয়েছিল, ৩০০ আসনের বিপরীতে দলগুলোকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দিতে হবে। কিন্তু বড় রাজনৈতিক দলগুলো এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। একমাত্র ব্যতিক্রম এনসিপি। তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই দলটি তাদের ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন নারীকে মনোনয়ন দিয়ে ৬ শতাংশের বেশি হার অর্জন করেছে। বড় দলগুলো পিছিয়ে থাকলেও বামপন্থি ও ছোট দলগুলো নারী মনোনয়নে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।





