গোলাপগঞ্জে এক নারী নিয়ে দুই শেখের টানাটানি প্রান হারলেন নিরীহ যুবক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
সিলেটের গোলাপগঞ্জে ছাত্রদল নেতার ছুরিকাঘাতে যুবদল কর্মী খুন হওয়ার পর থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক তথ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে (১০ আগস্ট) জসিম উদ্দিন রনি নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের সাথে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাজুর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। আর এই হত্যাকাণ্ডের কলকাঠি নাড়িয়েছেন শেখ বদরুল নামের এক যুবক এমনটাই অভিযোগ করেন ঘাতক রাজু।
রাজু বর্তমানে পলাতক রয়েছেন,পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
এখন পর্যন্ত পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে না পারলেও রাজু বিভিন্ন সময় তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিও প্রকাশ করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। (১৩ আগস্ট) রাজু একটি ভিডিও লাইভে এসে তার সাথে জড়িতদের নাম উল্লেখ করে বলেন আমি একা কেন শাস্তি পাবো? যারা এই ঘটনা আমাকে দিয়ে ঘটাতে বাধ্য করেছেন আমি তাদের নাম প্রকাশ করতে চাই।
এসময় রাজু বার বার শেখ বদরুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আঙুল তুলেন। রাজু দাবি করেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পিছনে বদরুল নামের একজনের পরোক্ষ হাত রয়েছে। রাজু দাবি করেন শেখ বদরুল রাজুর প্রেমিকা ইমু’র প্রতি দীর্ঘদিন থেকে কুনজর দিয়ে আসছিলেন। বেশ কয়েকবার ইমুকে ব্ল্যাকমেইল করার চেস্টা করেন। বিষয়টি ইমু কয়েকবার রাজুকে জানালেও রাজু প্রথম দিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বুঝতে পারেন। রাজু বলেন আমি রনিকে বিশ্বাস করে আমার ব্যক্তিগত ছবি দিয়েছিলাম কিন্তু বদরুল জোর করে রনির কাছ থেকে আমার গোপন ছবি হাতিয়ে নেয় এবং আমার প্রেমিকা ইমুকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। ইমু তার প্রস্তাবে রাজি না হলে বদরুল আমাকে ফাঁসাতে নানান ফন্দি আঁটতে থাকে।
ভিডিও বার্তায় রাজু বলেন তার প্রেমিকা ইমুকে বদরুল (পাটা বদরুল) কুপ্রস্তাব দিয়ে শান্ত হয়নি, একাধিক বার ধর্ষণের চেস্টা করেন।কিন্তু এতে বার বার বাঁধা হয়ে দাঁড়ান রাজু। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে বদরুল রাজুকে শায়েস্তা করতে একের পর এক পরিকল্পনা করতে থাকেন। বদরুলের উদ্দেশ্য ইমুকে ভোগ করা কিন্তু রাজুর জন্য সেটা পেরে উঠছিলো না তাই বদরুল এমন এক ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেন যাতে রাজুকে ইমুর জীবন থেকে সরানো যাবে। আর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী রনিকে চাপ দিয়ে রাজুর ব্যক্তিগত ছবি ফেবুকে প্রকাশ করান বদরুল। আর এখান থেকেই শুরু হয় রাজু-রনি অধ্যায়।
ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করার পর রাজু উত্তেজিত হয়ে রনিকে ছবি ডিলেট করার জন্য হুমকি দিতে থাকেন। কিন্তু এতে রনিকে সাহস যোগান বদরুল। এক পর্যায়ে রনি-রাজু বাকবিতন্ডায় জড়ান এবং রনিকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন রাজু। জানা যায় রনি প্রথম দিকে বিষয়টি এখানেই সমাপ্ত করতে চাইলেও বদরুল তাকে চাপ দিয়ে রাজুকে কদমতলি পয়েন্টে ডেকে আনতে বলেন। রাজু সেই ডাকে সাড়া দিয়ে পৌরসভার কদতলি পয়েন্টে আসলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে রাজু রনিকে ছুরিকাঘাত করে বসে। এরপর রনিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় এঘটনা সম্পুর্ণ দূর থেকে দেখেন শেখ বদরুল। তবে রনিকে আহত অবস্থায় দেখেও বাঁচাতে আসেনি বদরুল।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বদরুলের উশৃংখল জীবনযাপন ও এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে বদরুলের হাত আছে বলেও অনেকে দাবি করেছিলেন। সেই সত্যতা পাওয়া গেলো খোদ রাজুর বক্তব্য থেকে।
রাজুর বক্তব্য থেকে জানা যায়, গোলাপগঞ্জে প্রভাব বিস্তার করতে রাজু এবং রনিকে ব্যবহার করে আসছিলেন বদরুল, তবে নারী ঘটিত বিষয় থেকেই সম্পর্কে ফাটল ধরে,এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গড়ায়।
কে এই বদরুল?
বদরুল হক (৩২) গোলাপাগঞ্জ পৌরসভার,উত্তর ঘোষগাও ৩নং ওয়ার্ডের মতাহির আলী রুতন মিয়ার ছেলে। বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় সে পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি,থানার দালালি,অপহরণসহ নানান অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ভোল পাল্টে গোলাপগঞ্জের বিএনপি নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সে। একাধিক মিছিল মিটিং এর ভিডিও ও স্থির চিত্রে গোলাপগঞ্জের বিএনপির বিভিন্ন নেতাদের সাথে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সামনে আসে।
অভিযোগ রয়েছে গোলাপগঞ্জে বিএনপির একজন নেতার ছত্রছায়ায় থেকে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে সে বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে। থানার দালালি,টিলা কাটা, অপহরণসহ নানান অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছে বলে এমন অভিযোগ করেন স্থানীয় মানুষজন।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আসামীকে গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে, ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




